Image description

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছাত্র ও কর্মীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত শনিবার মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনা এবং নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

স্কুলটি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘাঁটির কাছে অবস্থিত ছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রতিবেদন খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা এলাকায় ওই অভিযান সম্পর্কে ‘সচেতন নয়’।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যমে ১৬০ জনের জন্য কবর খোঁড়ার একটি ছবি শেয়ার করেছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ‘উদ্ধার’-এর কথা বলেছিলেন, বাস্তবে তার ফল এমনই হয়েছে।’ এখানে জনগনের কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ইরানারে জনগনকে ইসলামী শাসন থেকে মুক্ত করবেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে সম্প্রচারিত নিহতদের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শত শত শোকাহত মানুষ রাস্তায় ভিড় জমান।

ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতাকায় মোড়ানো কফিনগুলো জনতার মধ্য দিয়ে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত শিক্ষার্থীদের বাবা-মা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার সকালে স্কুলটিতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এটি আইআরজিসি ঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার (১৯৭০ ফুট) দূরে অবস্থিত। ইরানে ছয় দিনের কর্ম সপ্তাহ শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে।

শুক্রবার একমাত্র সরকারি ছুটির দিন। স্কুলটি যখন আঘাত হানা হয় তখন সেখোনে অনেক মানুষ ছিল।
বিবিসি বিস্ফোরণের পরের ঘটনার ভিডিও যাচাই করেছে, একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উড়ছে, কাছাকাছি বহু মানুষ জড়ো হচ্ছে, কিছু লোক আতঙ্কে চিৎকার করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোকেই প্রায়ই ইরান ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, ফলে সেখানে তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমিত।

সোমবার বিবিসি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে জিজ্ঞাসা করেছিল, স্কুল ভবনটি কি আমেরিকান ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত হেনেছে? রুবিও জবাবে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করবে না। সত্যি বলতে, বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘কী কারণে এটি ঘটেছে সে সম্পর্কে আমার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই, তবে যা স্পষ্ট তা হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করবে না।

মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেছেন, ‘আমরা এই প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে সকল ধরণের সতর্কতা অবলম্বন চালিয়ে যাব।’ সূত্র : বিবিসি।

শীর্ষনিউজ