যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মার্ক কিমিট ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধ এবং এর উদ্দেশ্য নিয়ে আরও বিস্তারিত কথা বলেছেন। তিনি বলেন, "বাইরে কিছু বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা থাকলেও, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যগুলো পরিষ্কার। আর তা হলো—দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটানো, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক বা ছায়াযুদ্ধের জাল নির্মূল করা।"
ডেমোক্র্যাটসহ অনেকের আশঙ্কা ছিল যে, এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য হয়তো মাটিতে সৈন্য নামানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে কিমিট সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট স্পষ্টই বলেছেন, তিনি এমন কোনো ‘অনন্ত যুদ্ধের’ (forever wars) সঙ্গে জড়াতে চান না, যেখানে ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে সৈন্যরা আটকা পড়ে যায়। সেখানে সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পর জাতি গঠন (nation building), শেয়ার বাজার স্থাপন বা অন্যান্য কম গুরুত্বপূর্ণ মিশনে জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল।"
কিমিট আরও বলেন, "তাই আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র যদি কেবল এই তিনটি লক্ষ্যের ওপরই মনোযোগ নিবদ্ধ রাখে এবং এর বাইরে না যায়, তবে সবকিছু ঠিকঠাকই থাকবে। এটি একটি ‘ওপেন-এন্ডেড’ বা অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ, কারণ এটি তখনই শেষ হবে যখন ইরান উপলব্ধি করবে যে তাদের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা দরকার।" এই অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে শর্ত একটাই—তেহরানকে আগেই ওয়াশিংটনের ওই তিনটি দাবি মেনে নিতে হবে।
সূত্র : আল জাজিরা