Image description

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। টানা চার দিনের যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

 

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংস্থাটি প্রাণহানির হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করে। তাদের দাবি, এই সংখ্যা আগের মানবিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর হিসাবের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

 

অন্যদিকে, নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাঁও জানিয়েছে, সংঘাতের তৃতীয় দিনেই নিহতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছায়। তাদের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ বেসামরিক নাগরিক এবং ১ হাজার ৩০০ ইরানি বাহিনীর সদস্য।

 

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট আরও জানায়, দেশজুড়ে অন্তত ৫০৪টি স্থানে মোট ১ হাজার ৩৯টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছেন।

 
 

 

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হতাহতের এ সংখ্যার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।

 

এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ইরানে সমন্বিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে এই দুই দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে ইরানের। যদিও তেহরান দাবি করছে, পরমাণু শক্তি অর্জন তাদের অধিকার এবং তারা তা শান্তিপূর্ণভাবে করছে। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য।

 

কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের দাবি, ইরান পরমাণু শক্তি অর্জন করলে ‘বিশ্ব মানবতার জন্য হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে। তাই দেশটিকে রুখতে তারা হামলা চালিয়েছে।

 

এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির জন্য গত বছর থেকে কয়েক ধাপে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার মধ্যে গত বছরের জুনে ইরানে আকস্মিক হামলায় চালায় ইসরায়েল। সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এবারও একই পথে হেঁটে তেহরানে হামলা চালিয়েছে মিত্র দুই দেশ।