ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির বর্তমান কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় তাঁর স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহও নিহত হয়েছেন। পুরো দেশে এখন তাদের জন্য শোক চলছে। বাসিন্দারা প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখার আকুতি প্রকাশ করছেন। খামেনির জন্য তারা জীবন দিতেও প্রস্তুত।
উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হোসেইন দাদবাখশ। তাঁর কথায় ফুটে উঠল খামেনির প্রতি আনুগত্য। তিনি জানান, ‘ইরান ইমামের হত্যার প্রতিশোধ নেবে। আমি ইসলাম ও ইমাম খামেনির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। ইহুদিবাদী সরকার ও ট্রাম্পকে আমার নেতার শাহাদাতের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।’ এ সময় তিনি আবেগে কাঁপছিলেন।
কেন্দ্রীয় শহর শিরাজের একজন স্কুলশিক্ষিকা আতৌসা মির্জাদে রয়টার্সকে বলেন, তিনি বিদেশি শক্তির হাতে সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার খবরে খুশি হতে পারেন না। কারণ, তারা জানেন না দেশের কী হবে। তারা ইরাকে বিশৃঙ্খলা এবং রক্তপাত হতে দেখছেন। তারা তেমন কোনো সরকার ইরানে দেখতে চান না।
আলজাজিরা জানায়, রাষ্ট্রীয়ভাবে খামেনিকে দাফনের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। এই শোক পালনের মধ্যেই তাঁর দাফনের প্রস্তুতি চলছে। তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপদে সর্বোচ্চ নেতার জন্য শোক পালন করছে মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে হাজার হাজার শোকাহত ব্যক্তি জড়ো হন। সোমবারও এঙ্গেলাব স্কয়ারে শোকাহতরা কালো পোশাক পরে হাজির হন। তাদের অনেকেই সর্বোচ্চ নেতার জন্য কাঁদছিলেন। তাদের হাতে ছিল ইরানের পতাকা। শোকার্তরা খামেনির ছবি ধরে ছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮৬ বছর বয়সী ধর্মগুরুকে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিদের একজন হিসেবে বর্ণনা করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই রোববার ভোরে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে খামেনির খুনিদের কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মারা গেছেন খামেনির স্ত্রীও
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল টু নিশ্চিত করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহকেও নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো এর আগে জানিয়েছিল, বাঘেরজাদেহ কোমায় ছিলেন। এছাড়া হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি এবং জামাতা নিহত হয়েছেন। খামেনি দম্পতির ছয় সন্তান–চার ছেলে ও দুই মেয়ে।
শীর্ষনিউজ