Image description

নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অনেকে ভেবেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প আর মার্কিন মসনদে বসতে পারবেন না। তবে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়ে বিশ্বকে চমকে দেন ট্রাম্প।

দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরার আগে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য করতে নির্বাচনি প্রচারণায় দাবি করতেন— ২০১৭-২০২১ সালের শাসনামলে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হয়নি এবং তিনি ‘সাতটি অনির্ণেয় যুদ্ধ’ শেষ করেছেন।

অথচ দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে পাল্টে গেছে তার প্রতিশ্রুতির চিত্র। ইরান, ভেনেজুয়েলা, সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ট্রাম্পকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর।

ইরানে প্রকাশ্য হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য আসলে কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। স্বল্পস্থায়ী সংঘাত নাকি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ— কোন পথে হাঁটবেন ট্রাম্প, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

অন্যদিকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ চলমান। সেখানেও ট্রাম্পের হাত রয়েছে বলে জোর গুঞ্জন। প্রশ্ন উঠেছে— সহিংসতা ও যুদ্ধ লাগানোর ক্ষেত্রে কি অন্য প্রেসিডেন্টদের ছাড়িয়ে যাবেন ট্রাম্প?

কার প্রেসিডেন্সির সময় কী ধরনের সহিংসতা ঘটেছিল?

মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রেসিডেন্টদের সময়ে সবচেয়ে বেশি বা বড় মাপের যুদ্ধ হয়েছে ফ্রাংকলিন ডি রুজভেল্টের সময়। তার নেতৃত্বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৪১-৪৫) যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণমাত্রায় অংশ নেয়। এটিকে ধরা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক যুদ্ধ। মার্কিন ইতিহাসে খুব অল্প কয়েকবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একাধিক ঘোষিত যুদ্ধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জড়িত রুজভেল্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও জার্মানি, ইতালি ও জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মূল নায়ক ছিলেন রুজভেল্ট।

তার পরই যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টদের তালিকায় নাম আসে জর্জ ডব্লিউ বুশের। তার শাসনামলে আফগানিস্তান-ইরাক যুদ্ধ সংগঠিত হয়। আফগানিস্তানের যুদ্ধটি ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তালেবান-মিত্র এবং আফগানিস্তান-ভিত্তিক আল-কায়েদা দ্বারা পরিচালিত হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম নামে একটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট দ্বারা আক্রমণের মাধ্যমে শুরু হয় এই যুদ্ধ।

ইরাকে ২০০৩ সালের মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আটক হন বুশ বাহিনীর হাতে। পরে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ মার্কিন সেনা মোতায়েন করে যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টের তালিকায় নাম লেখান লিন্ডন বি জনসন।

১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন হ্যাসি এস ট্রুম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং রুজভেল্টের মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ট্রুম্যান। জাপানের ওপর বোমাবর্ষণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছিলেন এই প্রেসিডেন্ট।

ছোট-বড় বহু সামরিক হস্তক্ষেপ মিলিয়ে দেখলে ১৯০০ শতকে উইলিয়াম মিককেনলির সময়ে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে একাধিক সামরিক অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।

২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল। মার্কিন বিমান হামলায় গাদ্দাফির কনভয় ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিদ্রোহী বাহিনী তাকে বন্দি ও হত্যা করে। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক হুসেন ওবামা।

বলা যায়, মার্কিন সব প্রেসিডেন্টকে ছাড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ‘শ্রেষ্ঠ যুদ্ধবাজ’ প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ফিরে যাবেন, সে জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।