ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় ইরানের ‘স্লিপার সেল’ (গুপ্ত চক্র) সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলা এবং কানাডায় এক ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীর জিম-এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ‘স্লিপার সেল’ আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
টেক্সাসের অস্টিন শহরের সিক্সথ স্ট্রিট ডিস্ট্রিক্টের একটি বারে গত রোববার (১ মার্চ) ভোরে এক বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২ জনকে হত্যা এবং অন্তত ১৪ জনকে আহত করেছে। পরে পুলিশের গুলিতে ৫৩ বছর বয়সি সন্দেহভাজন এনডিয়াগা দিয়াগনে নিহত হয়।
তদন্তে জানা গেছে, দিয়াগনের পরনে ছিল ‘প্রপার্টি অব আল্লাহ’ লেখা হুডি এবং ইরানের পতাকার লোগো সংকলিত শার্ট।
মার্কিন সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, তার অ্যাপার্টমেন্টে ইরানের বর্তমান শাসনের নেতাদের ছবি এবং ইসলামিক রিপাবলিকের পতাকা পাওয়া গেছে। এফবিআই এবং জয়েন্ট টেরোরিজম টাস্ক ফোর্স ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে তদন্ত করছে।
খামেনেইর মৃত্যুর খবর আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানাডার ওন্টারিওতে ইরানি শাসনের কড়া সমালোচক এবং বক্সিং চ্যাম্পিয়ন সালার গোলামির জিম-এ বন্দুক হামলা চালানো হয়।
রিচমন্ড হিলের সালিওয়ান বক্সিং ক্লাব-এ অন্তত ১৭ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। সালাওয়ান বক্সিং ক্লাবের জানালায় ইরানের বর্তমান শাসনবিরোধী এবং স্বাধীনতার প্রতীকসংবলিত পতাকা ছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আইন প্রণেতারা আশঙ্কা করছেন যে, খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইরান বিশ্বজুড়ে তাদের গুপ্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল ইতোমধ্যেই হিজবুল্লাহ এবং ইরান সমর্থিত স্লিপার সেলগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল