যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেছেন। শনিবার সকালে উচ্চপর্যায়ের অত্যন্ত গোপনীয় এক বৈঠক চলার সময় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা চালিয়ে খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। গতকাল ইরানের সরকারি সূত্র আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাবাহিনীর প্রধান, আয়াতুল্লাহ খামেনির মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ ও নাতিসহ অন্তত ৩০ জন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার ভোরের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান চালিয়ে তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের শেষ মুহূর্তের তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানে উচ্চপর্যায়ের অত্যন্ত গোপনীয় এক বৈঠক চলাকালীন ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইসরায়েলি সময় ভোর ৬টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে ইসরায়েলের ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান তেহরানে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে খামেনির ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টিত ভবনে ৩০টি বোমা ফেলে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে রয়টার্স ও নিইউয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনিকে নজরদারিতে রেখেছিল এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে ছিল। সেসব তথ্য প্রতি মুহূর্তে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে আসছিল সিআইএ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুরুতে রাতের দিকে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারেন, খামেনির নির্ধারিত বৈঠকটি সন্ধ্যার পরিবর্তে শনিবার সকালেই শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে খামেনির বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ বিমান ও নৌ হামলা শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ সময় পেলে তিনি আত্মগোপনে যেতে পারেন; এমন ধারণা ছিল মার্কিন গোয়েন্দাদের। ইসরায়েল বলছে, এই হামলায় খামেনির সঙ্গে আলী শামখানি এবং আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাও নিহত হয়েছেন।
এদিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন ট্র্যাকিং সিস্টেম খামেনির অবস্থান শনাক্ত করেছিল এবং এই হামলায় তাকেসহ অন্য ইরানি নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সেনাপ্রধান আবদুল রহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ ও নাতি নিহত হয়েছেন। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে সাত দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।