‘দুবাইয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ভবনে মিসাইল হামলা করেছে ইরান’—এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। একই ভিডিও বাংলাদেশি বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ইতিহাদ টাওয়ারে ইরানের হামলা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ২০১৫ সালের একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ইরানের ড্রোন হামলা বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে প্রচারিত ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দুবাইয়ে অবস্থিত অফিসে ইরানি ড্রোন হামলার পর পুরো ভবনে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। ইসরায়েলি সূত্র দাবি করেছে যে ইরানি হামলার পর ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।’
অন্য একটি প্রোফাইলে ভিডিওটি সৌদি গেজেট থেকে নেওয়া বলে দাবি করা হয়। প্রচারিত পোস্টগুলোয় দাবিটি বিশ্বাস করে মন্তব্য করেছেন নেটিজেনদের অনেকে।
অন্যদিকে বাংলাদেশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি আবুধাবির ইতিহাদ টাওয়ারে ইরানি ড্রোন হামলা দাবি করে প্রকাশ করা হয়েছে। এ-সম্পর্কিত কয়েকটি সংবাদ দেখুন এখানে ও এখানে।
তবে প্রচারিত ১১ সেকেন্ডের ভিডিওটি ইনভিডে কি-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে ঘটনার আরও কিছু ভিডিও পাওয়া যায়। ২০১৬ সালে প্রকাশিত দ্য ন্যাশনাল ইউএই চ্যানেল ও গাল্ফ নিউজে প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটি মিলে যায়। একই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে আরব নিউজে প্রকাশিত সংবাদ দেখুন এখানে।
প্রচারিত সংবাদের ভবনটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে জানা গেছে, ভবনটির নাম আল নাসের টাওয়ার। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরের কিং ফয়সাল রোডে অবস্থিত একটি ৩২তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন। অন্যদিকে ইতিহাদ টাওয়ারস হলো দেশটির রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত পাঁচটি সুউচ্চ ভবনের একটি আধুনিক স্থাপত্য কমপ্লেক্স।
এ ছাড়া সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অর্থ্যাৎ ‘দুবাইয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ভবনে মিসাইল হামলা করেছে ইরান’ বা ‘আবুধাবি ইতিহাদ টাওয়ারে ইরানি ড্রোন হামলা’ দাবিগুলো ভুয়া। ঘটনাটি মূলত ২০১৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।