ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় প্রাণ হারানোর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজের উত্তরসূরিকে নির্ধারণ এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা তৈরি করে রেখেছিলেন। চার দশক ধরে ধর্মীয়, সামরিক ও রাজনৈতিক সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এই নেতা রবিবার (১ মার্চ) ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলার সময় নিহত হয়েছেন বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ নিশ্চিত করেছে।
ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধের সম্ভাব্য ভয়াবহতা বিবেচনা করে খামেনি আগেই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন। এর মাধ্যমে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে কিছুটা পাশ কাটিয়ে জরুরি সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তেহরানের ‘পাস্তুর কমপ্লেক্সে’ চালানো হামলায় খামেনির বাসভবন ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ৮৮ সদস্যের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’-এর। তবে গত জুনে এক উত্তেজনার সময় খামেনি সম্ভাব্য তিনজনের একটি নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছিলেন। তালিকায় খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম জোরেশোরে আলোচিত হলেও, খামেনি নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করার ঘোর বিরোধী ছিলেন।
শনিবার রাত পর্যন্ত ইরানের কার্যকর নেতৃত্ব কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কিছু নেতা হারালেও ইরানের আত্মরক্ষার লড়াই থামবে না। সম্ভাব্যভাবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠিত হতে পারে, যেখানে প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য থাকবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের দ্রুত বৈঠকের মাধ্যমে নতুন নেতার নাম ঘোষণা করা হতে পারে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র ভূমিকা ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ঢাকাটাইমস