ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন, এমন দাবি করেছে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম। যদিও কোনো পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।
ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল-১২ অজ্ঞাতনামা ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আজ শনিবারের এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি সম্ভবত নিহত হয়েছেন। এমন মূল্যায়ন করছে ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এ দাবি সম্পর্কে এখনো কোনো পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।
চ্যানেল ১২ আরও জানায়, এর কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলের মূল্যায়ন ছিল যে খামেনি অন্তত আহত হয়েছেন। এই মূল্যায়ন স্যাটেলাইট চিত্রে তার প্রেসিডেন্ট কম্পাউন্ড ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভিত্তিতে নয়, বরং অজ্ঞাত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির শিগগিরই ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। যদি তা সম্প্রচারিত হয়, তবে সেটি আগেই ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে চ্যানেলটি।
এদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কান জানিয়েছে, খামেনির সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের কোনো যোগাযোগ নেই এবং তার বর্তমান অবস্থা অজানা।
চ্যানেল-১২ আরও দাবি করেছে, আজকের হামলায় ইরানি শাসনব্যবস্থার নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের খুবই উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে রয়টার্সকে এক ইরানি সরকারি কর্মকর্তা জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই। তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানে আজ শনিবার ভোরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলাকে ইসরায়েল ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’ (প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক) বলেছে। প্রথম দফার হামলাতেই খামেনি টার্গেট করা হয়।
জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্যটুকুই প্রচারিত হয়। এরপর খামেনির অবস্থান বা আহত হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে আর কোনো পাল্টা বিবৃতি আসেনি।