মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইল সফর করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগে থেকে নির্ধারিত এই সফর আজ বুধবার শুরু হবে। ভারতের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো তেল আবিব সফর করছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে তার এই সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সংসদের একটি স্থায়ী কমিটি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
ভারতের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, অঞ্চলে অস্থিরতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সফরের সময় নির্বাচন কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল। একই সময়ে ভারত নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে, এ অবস্থায় মোদির ইসরাইল সফর কতটা যুক্তিযুক্ত, সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
বিরোধী দল কংগ্রেস নেতারা সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা এবং বেসামরিক হতাহতের মধ্যেও সফর চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ভারত সরকার ‘ফিলিস্তিনিদের পরিত্যাগ করেছে’।
তবে মোদির সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতেই দুই দিনের সরকারি সফরে ইসরাইল যাচ্ছেন মোদি। এবারের সফরে তিনি ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেবেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির প্রথম ইসরাইল সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। পরের বছর নেতানিয়াহু ভারত সফর করেন। মোদির নেতৃত্বে প্রযুক্তি, কৃষি, নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কৌশলগত খাতে ভারত–ইসরাইল সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ‘অসাধারণ অংশীদারিত্ব’ গড়ে উঠেছে এবং বৈঠকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। গত বছর ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের নয়াদিল্লি সফরের সময় দুই দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে।