উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ং-এ শুরু হয়েছে। পাঁচ বছর পরপর আয়োজিত এই সম্মেলনকে ঘিরে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ নিয়ে জোর জল্পনা দেখা দিয়েছে।
উদ্বোধনী ভাষণে কিম জং উন বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, জনগণের জীবনমান বাড়ানো এবং রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন আনা এখন পার্টির সবচেয়ে জরুরি দায়িত্ব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের ভেতরে গভীরভাবে প্রোথিত পরাজয়বাদ ও নেতৃত্বের অদক্ষতা অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে আছে—যা পর্যবেক্ষকদের মতে কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের কংগ্রেসের পর দেশটি কঠিন সময় অতিক্রম করলেও এখন নতুন আশা ও আত্মবিশ্বাসের পর্যায়ে প্রবেশ করছে। সম্মেলনে আবাসন নির্মাণ, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং সামরিক কৌশলসহ নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। কংগ্রেস শেষে সাধারণত সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে নতুন অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়।
পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদারের পরিকল্পনা
কিম আগেই জানিয়েছেন, এবারের কংগ্রেসে দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও শক্তিশালী করার রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকে দেশটির বিজ্ঞানীরা দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে বহনযোগ্য ক্ষুদ্র আকারের বিস্ফোরক মস্তক তৈরিতে কাজ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য পারমাণবিক কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধ করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কিম তার বক্তব্যে পারমাণবিক সক্ষমতার অগ্রগতি এবং চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে পারেন।