মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমজু প্রণালীতে সামরিক মহড়া জোরদার করেছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র মজুত প্রদর্শন, ড্রোন মোতায়েন এবং নৌবাহিনীর তৎপরতার মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়লেও ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
মঙ্গলবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বরাত দেওয়া হয়। তারা জানিয়েছেন, তাদের হাতে এমন অস্ত্র রয়েছে যা এই অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীকেও ডুবিয়ে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য ও মহড়া মূলত একটি প্রতিরোধ কৌশলের অংশ।
ইরানের কৌশল দুই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানো যে সামরিক পদক্ষেপ নিলে এর মূল্য হবে অত্যন্ত বেশি।
দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য সংঘাতে ইরানের জবাব শুধু সরাসরি হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এমনকি জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের ধারণা, এই ধরনের শক্ত প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা একদিকে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করতে পারবে, অন্যদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে উদ্বুদ্ধ করবে, যাতে সংঘাত এড়ানো যায়।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে এখানে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।