Image description
 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, তার প্রশাসন বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। 

 

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, ভবিষ্যতে হার্ভার্ডের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার প্রশাসন আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চায় না। হার্ভার্ডের কর্মকাণ্ডকে 'ফৌজদারি অপরাধ' হিসেবে গণ্য করা উচিত উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের কৃতকর্মের পরিণাম ভোগ করতে হবে।

এই সংঘাতের মূলে রয়েছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রচেষ্ঠা। ট্রাম্প সরকার হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে 'আমেরিকা-বিরোধী ও সমাজতান্ত্রিক' মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ এনেছে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসগুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ এবং বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই খড়গহস্ত। 

ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ক্ষোভের নেপথ্যে 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর একটি প্রতিবেদন কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের কাছে পূর্বের ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি দাবিনামা থেকে সরে এসেছে। ট্রাম্প এই প্রতিবেদনটিকে 'ভুল ও ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

প্রেসিডেন্টের এই আইনি লড়াইয়ের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে একজন ফেডারেল বিচারক রায় দিয়েছিলেন যে, হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি গবেষণা অনুদান বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন আইন লঙ্ঘন করেছে। 

হোয়াইট হাউস বর্তমানে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে একের পর এক নতুন শর্ত আরোপ করছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে কোণঠাসা করার পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের চাপে কলম্বিয়া ও ব্রাউন ইউনিভার্সিটির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন প্রশাসনিক শর্ত মেনে নিতে বা বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে হার্ভার্ডের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ১ বিলিয়ন ডলারের যে বিশাল অঙ্ক দাবি করেছেন, তা আইনি লড়াইকে এক নতুন এবং অত্যন্ত জটিল পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

ট্রাম্পের মতে, এই মামলা কেবল নাগরিক আইনি লড়াই নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আলজাজিরা।