Image description

৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য ও জ্বালানি সম্পদ ক্রয়ের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন ভারতের ওপর থাকা আগের শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বিনিময়ে নয়াদিল্লি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করার পাশাপাশি মার্কিন পণ্যের প্রবেশে বিভিন্ন বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে সম্মত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বড় ঘোষণা দেন এবং জানান যে, ভারত এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহ করবে।

এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, 'আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে আনন্দিত। এটা জেনে খুব ভালো লাগছে যে মেড ইন ইন্ডিয়া পণ্যগুলোর ওপর এখন ১৮ শতাংশ হ্রাসকৃত শুল্ক হার কার্যকর হবে। এই চমৎকার ঘোষণার জন্য ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনেক ধন্যবাদ।' প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের বৃহত্তম দুটি গণতন্ত্র যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন তা জনগণের জন্য 'পারস্পরিক সহযোগিতার বিশাল সুযোগ উন্মোচিত হয়'। মূলত রাশিয়ার তেল কেনার জেরে ভারতের ওপর আগে থেকেই ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক ছিল, যা সাধারণ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন চুক্তির ফলে এই অতিরিক্ত শাস্তিমূলক বোঝা থেকে মুক্তি পাচ্ছে ভারত।

নতুন এই চুক্তির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক কাঠামোতে এশিয়ার অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় ভারত অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছে। বর্তমানে চীন (৩৭%), পাকিস্তান (১৯%), বাংলাদেশ (২০%), ভিয়েতনাম (২০%) এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের চেয়ে বেশি শুল্ক গুনতে হচ্ছে। এছাড়া সর্বোচ্চ শুল্কের তালিকায় থাকা ব্রাজিল (৫০%), মিয়ানমার (৪০%) বা দক্ষিণ আফ্রিকার (৩০%) তুলনায় ভারত এখন অনেক বড় ছাড় পেল। তবে ভারতের এই ১৮ শতাংশ শুল্ক হার এখনো যুক্তরাজ্য (১০%), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (১৫%) বা জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার (১৫%) জন্য নির্ধারিত হারের চেয়ে কিছুটা বেশি।

চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন কয়লা, জ্বালানি তেল, প্রযুক্তি এবং কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্প ভারতের এই সদিচ্ছাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, 'তারা একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের শুল্ক এবং শুল্কহীন বাণিজ্যিক বাধাগুলো শূন্যে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ নেবে।' গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার আগে ভারতের গড় শুল্ক হার ছিল প্রায় ১৫.৬ শতাংশ, যা নতুন চুক্তির ফলে আরও সুসংহত হতে যাচ্ছে। তবে এই ছাড়ের বিনিময়ে ভারতকে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সম্পর্ক ছিন্ন করার বড় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

এত বড় ঘোষণা সত্ত্বেও কিছু বিষয় এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। ট্রাম্পের বার্তায় এই শুল্ক ছাড় ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে কিংবা রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা কতদিন, তা জানানো হয়নি। এমনকি সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি বা সরকারি নোটিশ জারি করা হয়নি। অন্যদিকে, ভারত বা রাশিয়া কেউই এখন পর্যন্ত তেল কেনা বন্ধের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এছাড়া পূর্ববর্তী দেশগুলোর মতো মার্কিন শিল্পে ভারত সরাসরি কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।