Image description
 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম এক যুদ্ধাবস্থায় রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আদেশে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিশাল এক নৌবহর মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। এই বহরে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী রণতরী ‘ইউএসএস এব্রাহাম লিংকন’ এবং অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। যুক্তরাষ্ট্রের এই মারমুখী অবস্থানকে ইরানের জন্য এক অস্তিত্ব রক্ষার হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ইরানের পাল্টা প্রস্তুতি ও ‘মিসাইল সিটি’ মার্কিন হুমকির মুখে ইরানও পিছু হটেনি। মাটির নিচে তৈরি তাদের বিশেষ ‘মিসাইল সিটি’ থেকে হাজার হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত রেখেছে তেহরান। ইরানের হুঁশিয়ারি স্পষ্ট—তাদের ওপর কোনো হামলা হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে অভূতপূর্ব পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে।

আয়াতুল্লাহ খামেনীর হুঁশিয়ারি রবিবার তেহরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি এবার যুদ্ধ শুরু করে তবে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।" খামেনী অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ কুক্ষিগত করতে চায়।

 

অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও হতাহত ইরানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ট্রাম্পের উসকে দেওয়া একটি ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেন খামেনী। তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা সরকারি অফিস, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা চালিয়ে জাতীয় সম্পদের ক্ষতি করেছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই সামাজিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দাবিতে ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হলেও ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৩,১১৭ জন। ইরান সরকার এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছে।

 

সরকারের কৌশল ও জনক্ষোভ প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিহতদের তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমছে না। জনক্ষোভ প্রশমিত করতে সরকার নারী মোটরসাইকেল চালকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও উত্তেজনা কমছে না। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ইরানের ‘ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড’ (IRGC)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রতিবাদে ইরানের কট্টরপন্থী এমপিরা পার্লামেন্টে আইআরজিসি-র পোশাক পরে ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান দিয়েছেন।

শক্তির মহড়া ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যেই তেহরানে বিশাল সামরিক প্যারেড ও শক্তির মহড়া দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী ও পুলিশ। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইইউ-এর এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।