যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নতুন নথিপত্র অবমুক্ত করেছে, যা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। প্রকাশিত এই নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম আসায় বিরোধী দলগুলো তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তবে ভারত সরকার এই দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নথি অনুযায়ী, জেফরি এপস্টেইন ২০১৭ সালে কাতারের এক কর্মকর্তার কাছে পাঠানো ইমেইলে দাবি করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি তার পরামর্শ মেনে ইসরায়েল সফর করেছেন। এপস্টেইনের দাবি ছিল, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার জন্যই মোদি ইসরায়েলে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তার উপস্থিতি ট্রাম্পের উদ্দেশ্য সাধনে কাজ করেছে। ইমেইলে এপস্টেইন বলেছেন, মোদি তার পরামর্শ নেন এবং ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরায়েলে নাচ-গান করেন। মোদিকে নিয়ে এসব নথি প্রকাশ হওয়ার পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল একটি ভিডিও বিবৃতিতে এই অভিযোগগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরটি একটি দাপ্তরিক এবং রাষ্ট্রীয় সফর ছিল। এর বাইরে এপস্টেইনের ইমেইলে থাকা বাকি সব দাবি একজন দণ্ডিত অপরাধীর কল্পনাপ্রসূত গালগল্প ছাড়া আর কিছু নয়। সরকার মনে করে, এই ধরনের ভিত্তিহীন তথ্যের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং এগুলো চরম অবজ্ঞার সঙ্গে বর্জন করা উচিত।
এদিকে কংগ্রেসসহ ভারতের প্রধান বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুতে সরকারকে চেপে ধরেছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এই ঘটনাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে, এপস্টেইনের মতো একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধীর নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকা দেশের আন্তর্জাতিক সুনামের জন্য ক্ষতিকর। রাজ্যসভার সদস্য জয়রাম রমেশও এই বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে আরও স্বচ্ছ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। বিরোধী শিবিরের মতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ এই বিতর্কের অবসানের জন্য যথেষ্ট নয়।
মার্কিন বিচার বিভাগ গত শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথির পাশাপাশি ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করে। মূলত মার্কিন কংগ্রেসের একটি নতুন স্বচ্ছতা আইনের অধীনেই এই তথ্যগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও এই নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির নাম ও তাদের সাথে এপস্টেইনের যোগাযোগের সূত্র উঠে এসেছে।