Image description

ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই গাজায় আবারও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর রাতভর হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোর পর্যন্ত দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিস, গাজা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেইতুন এলাকা এবং অবরুদ্ধ উপত্যকার আরও কয়েকটি পাড়া-মহল্লায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

এদিন খান ইউনিসে এহাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ফিলিস্তিনিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে গুলি চালানো হয়। এতে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, গাজা শহরের জেইতুন এলাকার পূর্বদিকে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন।

ওয়াফা আরও জানায়, গাজা শহরের তুফ্ফাহ ও জেইতুন এলাকার পূর্বাংশে গোলাবর্ষণ এবং সামরিক যান থেকে ব্যাপক গুলি চালানো হয়েছে। পাশাপাশি, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর গাজার জাবালিয়া ও বেইত লাহিয়ায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। উত্তর উপকূলীয় এলাকায় ইসরায়েলি নৌযান থেকেও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।

গাজা সিটি থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা তারেক আবু আজ্জুম বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। তার কথায়, ‘কেন্দ্রীয় গাজা সিটি এবং পূর্বাঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি ড্রোনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির সীমারেখা হিসেবে নির্ধারিত ইয়েলো লাইন অতিক্রম করেও হামলা চালানো হচ্ছে।’

রাফাহ, খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চল এবং জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ব্যাপকভাবে ভবন ধ্বংস করা হচ্ছে। এই অভিযানগুলো মূলত ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়ানোর চেষ্টা, যাতে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় তা চাপের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, বলেন তিনি।

 
 

এদিকে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলা এই বিক্ষোভ-সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদতে এই বিক্ষোভ-সহিংসতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

সূত্র: আল-জাজিরা