Image description

ইরানে চলমান বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সেখানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ইরানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ চলছে, যা আরও ‘ভয়াবহ রূপ’ নিতে পারে।

 

মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া এই সতর্কতা জারির আগেই ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আমির হাতামি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আগাম সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।

 
ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ‘হিংস্রভাবে হত্যা’ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এই বিক্ষোভ মূলত দেশটির নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শুরু হয়েছে।
 
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-এর তথ্যানুসারে, হাতামি বলেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্যকে আমরা হুমকি হিসেবে দেখি এবং এটা চলতে থাকলে ইরান চুপ থাকবে না।’
 
 
তার এই হুঁশিয়ারির পরই মূলত অস্ট্রেলিয়া তার নাগরিকদের ইরান ছাড়ার আহ্বান জানায়।
 

 

 

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়, যিনি দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
 
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ট্রাম্পের কাছে কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘উপযুক্ত শিক্ষা দেয়ার’ হুঁশিয়ারিও দেন।
 
অন্যদিকে, মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে আরও কঠোর ভাষায় হুমকি দেন। বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খামেনিকেই লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।’ 
গ্রাহাম বলেন, ‘ইরানের জনগণের প্রতি আমরা সংহতি জানাচ্ছি। আয়াতুল্লাহর কাছ থেকে দেশ ফিরিয়ে নেয়ার লড়াইয়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ 
 
তিনি আরও বলেন, ‘আয়াতুল্লাহর প্রতি বার্তা—আপনি যদি ভালো জীবনের দাবিতে আন্দোলনরত নিজের জনগণকে হত্যা করতে থাকেন, তাহলে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আপনাকে হত্যা করবেন।’
 
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট