Image description

বহুদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী ও পরমাণু-সক্ষম দেশ হিসেবে পরিচিত ইরান। রাজনৈতিক টানাপোড়েন, জটিল কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মাঝেও দেশটি তার বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছে। আর এবার নতুন স্বর্ণ মজুত আবিষ্কারের ঘোষণা দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে অবস্থিত শাদান স্বর্ণখনিতে সম্প্রতি বিশাল স্বর্ণ মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, এই খনিটি বেসরকারি মালিকানাধীন এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই নতুন আবিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছে, যা শাদানকে ইরানের শীর্ষ স্বর্ণখনিগুলোর কাতারে নিয়ে গেছে।

 
আবিষ্কারের ফলে শাদান খনির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে পাওয়া গেছে প্রায় ৭.৯৫ মিলিয়ন টন অক্সাইড স্বর্ণ আকরিক এবং ৫৩.১ মিলিয়ন টন সালফাইড স্বর্ণ আকরিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুলনামূলক সহজে উত্তোলনযোগ্য অক্সাইড আকরিক দেশটির খনি শিল্পে বড় সুবিধা এনে দেবে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এ ধরনের মজুত ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

ইরান কখনোই তাদের জাতীয় স্বর্ণ মজুদের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ-সংগ্রহ প্রচেষ্টা বেড়েছে। ২০২৩–২৪ সালে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ স্বর্ণ-ক্রয়কারী ব্যাংকের একটি ছিল বলে জানা যায়। ডলারের বিপরীতে রিয়ালের অবমূল্যায়ন, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের কারণে সাধারণ মানুষও স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন।

বর্তমানে ইরানে মোট ১৫টি স্বর্ণখনি রয়েছে, যার মধ্যে উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের জারশোরান খনি সবচেয়ে বড়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে পশ্চিমা বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে ইরানের অর্থনীতি বহু ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন স্বর্ণ মজুত নিঃসন্দেহে দেশটির অর্থনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।