ইসরায়েলের সাবেক বন্দি রোমি গনেন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, গাজা উপত্যকায় ১৫ মাস বন্দিদশায় থাকাকালে হামাসের চারজন যোদ্ধা তাকে যৌন নির্যাতন করেছে।
দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রচারিত দ্বিতীয় পর্বে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ কে ২৫ বছর বয়সী গনেন বলেন, ‘আমাকে চুপ থাকতে কেউ বলবে না… আমি এখানে, আমি জিতেছি।’
হিব্রু ভাষায় কথা বলতে গিয়ে গনেন বন্দিদশায় ‘চারজন ভিন্ন ব্যক্তির দ্বারা নানারকম যৌন নির্যাতনের’ কথা উল্লেখ করেন—যার ‘মাত্রা ছিল ভিন্ন ভিন্ন’। তিনি সরাসরি ‘ধর্ষণ’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও তার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়ে মুক্তি পাওয়া গনেন একপর্যায়ে বর্ণনা করেন, কিভাবে তাকে তার কক্ষেই এক প্রহরী নির্যাতন করেছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কাঁদতে শুরু করি… সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তর্জনী ঠোঁটে রেখে সংকেত দেয়—‘সাবধান’। বলে, ‘যদি শান্ত না হও, আমি রেগে যাব’।’
আরেকদিন প্রহরী তাকে টয়লেট পর্যন্ত অনুসরণ করেছিল বলে জানান গনেন।
তিনি দাবি করেন, ‘এবং তখনই আমাকে তৃতীয়বার আক্রমণ করা হয়। এটি প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।’
তিনি বলেন, একটি নির্যাতনের পরদিন নিজের মনে বলেছিলাম, ‘রোমি, পুরো ইসরায়েল ভাবছে তুমি মারা গেছ, কিন্তু বাস্তবে তুমি তার চিরকালের যৌনদাসী হতে যাচ্ছ।’
তিনি আরো বলেন, আরেকবার তার এক নির্যাতনকারী সোফায় বসে তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘রোমি, তুমি ভালো আছ কি না?’
‘আমার মাথার ভেতর ভাবছি: ‘হারামজাদা, তুমি এটা কীভাবে জিজ্ঞেস করতে পারো?’
‘তারপর সে আমার কাছে আসে, বন্দুকটা আমার কপালে ধরে বলে, ‘তুমি যদি এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলো, আমি তোমাকে মেরে ফেলব।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য সুহাইল আল-হিন্দি রোমি গনেনকে উল্লেখ করে এএফপিকে বলেন, ‘ওই নারী বন্দির করা অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি।’
গনেনকে অপহরণ করা হয়েছিল গাজার কাছে রেইম এলাকায় নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল থেকে।
সেদিন অপহৃত ২৫১ জনের মধ্যে সশস্ত্ররা মৃত ও জীবিত সব বন্দিকেই ফেরত দিয়েছে—শুধু একজন ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ ছাড়া।