Image description
 

আসামের শিলচরে এক বাংলাভাষী অভিবাসী শ্রমিককে কথিত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে একদল লোক প্রচণ্ড মারধর করেছে। ওই ঘটনার পর তিনি ও তার নয়জন সঙ্গী পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের ঘরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলার অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়মিতভাবে কথিত বাংলাদেশি সন্দেহে নির্যাতনের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টেলিগ্রাফ। আসাম থেকে তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য সুস্মিতা দেব পুলিশকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন, হামলার পেছনে সন্দেহভাজন বজরং দল কর্মীরা জড়িত। মুর্শিদাবাদের সুতির নুরপুর গ্রামের ৩০ বছর বয়সী রিঙ্কু শেখ প্রায় দশ বছর ধরে আসামের শিলচরের চামরাগুডাম এলাকায় থাকেন। প্লাস্টিকের বিভিন্ন পণ্য ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রিঙ্কু বলেন, আমরা গ্রামের আরও নয়জন একই ভাড়া বাড়িতে থাকি। আমার একটি মোপেড আছে। তাতে করে প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বিক্রি করি।

গত রবিবার শিলচরের রাধামাধব রোড পয়েন্ট দিয়ে যাওয়ার সময় চার-পাঁচজন যুবক তার পথ আটকায়। রিঙ্কুর ভাষ্য- তারা বলে যে তারা একজন বাংলাদেশিকে ধরেছে এবং আমাকে মারধর শুরু করে। আমি বলি আমি মুর্শিদাবাদের মানুষ এবং ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড দেখাই। তারা বলে সেগুলো নকল।

তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা ফোন করে আরও কিছু লোক ডেকে আনে। এরপর তাকে ঘুষি-লাথি মারতে থাকে। রিঙ্কু বলেন, কিছুক্ষণ পর আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে শুরু করলে তিনি সুযোগ বুঝে দৌড়ে পাশের এক পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন এবং ঘটনা জানান। পরে পরিচিত কয়েকজনকে ফোন করলে তারা এসে সাহায্য করেন। রিঙ্কু রাঙিরখাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দাখিল করেন। শেষে তার মোপেড ও পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, ডকুমেন্ট দেখানোর পরও তারা আমাকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলেই ধরে নেয়। এমন পরিস্থিতিতে আমি আগে কখনও পড়িনি।

ঘটনার পর তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য গ্রামবাসীরাও আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সুস্মিতা দেব তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। রিঙ্কু বলেন, তিনি লোক পাঠিয়েছিলেন। আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমাকে ও আমার গ্রামের মারফত আলিকে বিমান টিকিট দিয়েছেন। আমরা বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফিরব। অন্যরা ট্রেনে করে শিলচর থেকে মুর্শিদাবাদে ফিরবেন বলে জানান তিনি। রিঙ্কু বলেন, ওরা সবাই আতঙ্কিত। আমরা আবার এখানে ফিরব কি না জানি না।

মঙ্গলবার সুস্মিতা দেব কাচাড় জেলার পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে ঘটনার দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছেন। তৃণমূলের আরেক রাজ্যসভা সদস্য সামিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাভাষী অভিবাসীদের ওপর হামলার আরও একটি দৃষ্টান্ত এটি। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে এমন হামলা, নির্যাতন ও এমনকি পুলিশি আটকও নির্বিচারে ঘটছে। আমরা রিঙ্কু শেখকে সাহায্য করেছি। শিলচর পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

শীর্ষনিউজ