Image description

ভারত থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আটকের পর আন্দামান হয়ে সাগরে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি। এভাবে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো শরণার্থীরা গিয়ে পড়ছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে, যেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের যোগ দিতে হচ্ছে চলমান গৃহযুদ্ধে।

বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দিল্লিতে বৈধভাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রথমে আটক করা হচ্ছে। এরপর উড়োজাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। সেখানে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে নৌকায় তুলে এমন স্থানে নেওয়া হয় যেখান থেকে মিয়ানমারের উপকূল কাছাকাছি। পরে হাত বেঁধে ও মুখে কাপড় পেঁচিয়ে সাগরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে তাদের।

নুরুল আমিন নামে এক রোহিঙ্গা জানান, তাঁর ভাই খায়রুল ও চার আত্মীয়কে এভাবে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। মোট ৪০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে বিবিসি।

ভিডিও কলে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন রোহিঙ্গা যুবক সৈয়দ নূর। তিনি জানান, ‘আমরা এখন এক যুদ্ধক্ষেত্রে আছি। ভারত সরকার আমাদের হাত বেঁধে, মুখে কাপড় পেঁচিয়ে সাগরে ফেলে দিয়েছে। কীভাবে মানুষকে সমুদ্রে ছুড়ে ফেলা যায়? মানবতা পৃথিবীতে বেঁচে আছে, কিন্তু ভারত সরকারের মধ্যে আমি কোনো মানবতা দেখিনি।’

জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত থমাস অ্যান্ড্রু জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। বিষয়টি জেনেভায় ভারত মিশনে উপস্থাপন করা হলেও কোনো জবাব দেয়নি দেশটি।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাস থেকে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে রোহিঙ্গা ও বাংলাভাষী মুসলমানদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে নির্বিচারে আটক ও বহিষ্কারের অভিযান চলছে। এর মধ্যে অন্তত ১৯২ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, যাদের অনেকেই জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে (UNHCR) নিবন্ধিত ছিলেন।

এইচআরডব্লিউর দাবি, আটক শরণার্থীদের মধ্যে অনেককে নির্যাতনও করা হয়েছে। অন্যদিকে বাকিদেরও ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বিবিসি বলছে, ভারত থেকে মিয়ানমারে পাঠানো রোহিঙ্গাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী বাহিনী বা স্থানীয় গোষ্ঠীর হাতে পড়ছে। এতে তারা বাধ্য হচ্ছেন সশস্ত্র লড়াইয়ে অংশ নিতে, যেখানে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি জীবনহানির ঝুঁকিও বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে।