Image description
 

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবার ইরানের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক সরাসরি ফোনালাপে যুবরাজ আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এই ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে রিয়াদ তা কখনো মেনে নেবে না এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ যে কারো বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন মধ্যপ্রাচ্য সফরের আগে ইরানের সঙ্গে সৌদি এই কৌশলগত যোগাযোগ ওয়াশিংটনের জন্য একটি কূটনৈতিক ধাক্কা।

ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাতে অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় তারা প্রস্তুত এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) নিয়মিত তদারকিতে রয়েছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই প্রসঙ্গে বলেন, রিয়াদ আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বানকে স্বাগত জানান এবং বলেন, ইরান-সৌদি সহযোগিতা জোরদার হলে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ফোনালাপে তেহরান থেকে জানানো হয়, যুদ্ধের প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, তবে আঞ্চলিক শান্তি ও মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যই তাদের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনসহ নিপীড়িত জাতিগুলোর প্রতি সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও পারমাণবিক চুক্তি না করলে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার হুমকি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে এবার যুবরাজের এমন উদ্যোগকে ইরান-সৌদি সম্পর্কের নতুন মোড় এবং মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য নীতির প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।