Image description

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে হাঙ্গেরি সফরের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই মধ্য ইউরোপের এই দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন তিনি। আরও বলা হয়েছে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর আর্বানের আমন্ত্রণেই দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আর্বানের কঠোর সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। পাশাপশি নেতানিয়াহু হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করা মাত্র আইসিসির পরোয়ানাকে সম্মান জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্নানও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থা।

“আইসিসি’র অন্যতম সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে হাঙ্গেরি এ আদালতকে সহযোগিতা করতে বাধ্য। আইসিসির কোনো নিজস্ব পুলিশ নেই, তাই এ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে—এমন কোনো ব্যক্তি যদি আইসিসির কোনো সদস্যরাষ্ট্রে প্রবেশ করে তাহলে তাকে গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা আছে। এক্ষেত্রে আইসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভর করে।”

“নেতানিয়াহু গুরুতর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে আর্বান কার্যত এসব অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের অপমান করেছেন। তবুও হাঙ্গেরির প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে— আইসিসির বাধ্যবাধকতা মেনে চলুন এবং নেতানিয়াহু হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করা মাত্র তাকে গ্রেপ্তার করুন।”

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসকে নির্মূলের নামে হাজার হাজার বেসামরিক নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহুকে দোষী সাব্যস্ত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি।

আইসিসির মোট সদস্যরাষ্ট্র ১২৫টি। এই আদালতের কোনো নিজস্ব পুলিশবাহিনী নেই, তবে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আদালতের সনদে উল্লেখ করা হয়েছে যে আইসিসির ঘোষিত কোনো আসামি যদি এই ১২৫টি সদস্যরাষ্ট্রের কোনো একটিতে অবস্থান করে, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা ওই দেশের সরকারের দায়িত্ব।

গত নভেম্বরে যখন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আইসিসি, তখনই অবশ্য একে ‘নিষ্ঠুর পদক্ষেপ’ বলে সমালোচনা করেছিলেন আর্বান। পাশাপাশি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু কখনও হাঙ্গেরি সফরে এলে সেই পরোয়ানার কোনো প্রভাব সে দেশে পড়বে না।