Image description

বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও গত লোকসভা নির্বাচনে তুলনামূলক হতাশজনক ফলাফল করায় ভারতের কেন্দ্র ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ও তাদের মূল সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মধ্যে সম্পর্ক ফের উষ্ণ হয়ে উঠছে। এমনটাই জানিয়েছে, প্রখ্যাত আরএসএস বিষয়ক গবেষক দিলীপ দেওধর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিলীপ দেওধর বলেছেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং তাদের মূল সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মধ্যে মোদি সরকারের বিগত ১১ বছরে সম্পর্ক কিছুটা শীতল ছিল। তবে লোকসভা নির্বাচনে হতাশাজনক ফল এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল উভয় সংগঠনকে কাছাকাছি এনেছে।

গবেষক দিলীপ দেওধরের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দেওধর এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যার কয়েক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত রোববার মহারাষ্ট্রের নাগপুরে প্রথমবারের মতো সফর করেছেন। নাগপুরে মোদি যে জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন সেই মঞ্চে উপস্থিতি ছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেওধর বলেন, ‘গত ১১ বছরে মূল সংগঠন এবং দলের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে গিয়েছিল এবং বিজেপি এই বছরগুলোতে নিজেদের পথেই চলেছে। কর্ণাটক ও উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সে সময় আরএসএসের পরামর্শ উপেক্ষা করেছিল বিজেপি। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর—যেখানে বিজেপি এক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেক দূরে ছিল—এবং বাংলাদেশের ক্ষমতার পরিবর্তন দুটি সংগঠনকে কাছে এনেছে।’

গবেষক দেওধরের সঙ্গে সাবেক আরএসএস প্রধান এমএস গোলওয়ালকর, বালাসাহেব দেওরাস এবং অন্যান্য নেতা যেমন মোরোপন্ত পিংলে, ডিবি থেঙ্গাদি ও মদন দাস দেবী নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। দেওধরের মতে, সংঘ এই নির্বাচনে (বিধানসভা ও লোকসভা) বিজেপির প্রচার থেকে নিজেদের দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

দেওধর বলেন, ‘আরএসএস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কর্মীদের (বিজেপির হয়ে) প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার জন্য সরাসরি নির্দেশ ছিল না। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কর্মী বা দলের নেতাদের প্রচারে যোগ দেওয়াতেও কোনো বাধা ছিল না। তবে সংঘ বিজেপিকে সাহায্য করার জন্য বিশেষভাবে এগিয়ে আসেনি এবং এর প্রভাব বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে দেখা গেছে।’

দেওধর বলেন, আরএসএস বিজেপি নেতৃত্বের ওপর নাখোশ ছিল এবং লোকসভা নির্বাচনের কয়েক দিনের মধ্যেই আরএসএস প্রধান ‘ব্যক্তি পূজা’ এবং একজন নেতার হাতে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের বিরুদ্ধে কথা বলায় বিষয়টি স্পষ্ট দেখা যায়।

এই আরএসএস গবেষক বলেন, দুটি সংগঠন তাদের ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘সংঘ বিজেপি নেতৃত্বকে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল যে, বাংলাদেশে যেভাবে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, সেরকম কিছু দেশেও ঘটতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক বিরোধী নেতাও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বলেছিলেন যে, দেশেও একই জিনিস দরকার। তাই উদ্বেগগুলো অমূলক ছিল না। সংঘ ও বিজেপি উভয়েই জানে যে এমন বাইরে শক্তি আছে যারা চায় না, ভারত তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করুক।’

এর আগে, ২০০০ সালে তৎকালীন বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি তাঁর মন্ত্রিসভা নিয়ে নাগপুরের রেশিমবাগে গিয়েছিলেন। তখন আরএসএস-এর তৎকালীন প্রধান কেএস সুদর্শন তাঁকে উপেক্ষা করে দূরে ছিলেন। এবার ভাগবত মোদিকে স্বাগত জানিয়েছেন। রোববার ভাগবতের ভাষণ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তিনি কীভাবে মোদির বক্তব্য শুনতে উৎসুক ছিলেন। অন্যদিকে মোদিও সংঘ এবং ‘বিকশিত ভারত’ প্রকল্পের জন্য সংঘের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।