Image description

মিয়ানমারে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বুধবারের মধ্যে ৩,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মানবিক সংস্থাগুলো আগামী মে মাসে সম্ভাব্য বর্ষার আগেই দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে ম্যান্ডালে ও সাগাইং শহরে ধ্বংসস্তুপে ছাওয়া রাস্তায় আতঙ্কিত মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মৃতদেহের গন্ধ। বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

CARE সংস্থার মিয়ানমার পরিচালক আরিফ নূর বলেন, “প্রতিটি ঘণ্টায় স্পষ্ট হচ্ছে—এটা এক বিপর্যয়ের ওপর আরেক বিপর্যয়। এখনো অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন, হাসপাতালগুলো ভীষণভাবে ভিড়াক্রান্ত। এই বিপর্যয়ের শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বহু বছর থাকবে।”

৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মঙ্গলবার পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ২,৭১৯ বলে জানিয়েছে জান্তা সরকার। নিখোঁজ ৪৪১ জনের বেশিরভাগেরই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। কিছু সংস্থার মতে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ১০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো ও চলমান গৃহযুদ্ধ উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে বিরোধী এনইউজি অভিযোগ করেছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জান্তা সরকার বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরে ত্রাণ পাঠানো বন্ধ করছে। সাগাইং অঞ্চলের চাউং-উ শহরের বাসিন্দা ইয় লেই বলেন, “মানুষ ঘরের বাইরে থাকছে। কিন্তু বোমা পড়লে খাল বা গর্তে আশ্রয় নিতে হয়। এতে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে গেছে।”

তিনটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর “থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স” এক মাসের একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে, যাতে ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো যায়। তবে সামরিক বাহিনী তাদের বার্তায় জানিয়েছে, তারা হামলা বন্ধ করলেও সংখ্যালঘু বাহিনীগুলো এই দুর্যোগকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত হচ্ছে।