Image description

উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের জারি করা চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক এবং কাতারের জাহাজগুলোকে অব্যাহতি দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সহ-সভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দেম আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি’ (আইএসএনএ)-কে জানান, ‘এই চারটি দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করছে এবং মার্কিন বাহিনীও তাদের পথ আটকে দিচ্ছে না’।

ছাড়ের বিনিময়ে ইরানের লাভ কী?

আমির হায়াত মোকাদ্দেম জানান, এই ছাড়ের বিনিময়ে ইরান ভারত থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ পাবে এবং চীনের কাছ থেকে পাবে কূটনৈতিক সমর্থন। অন্যদিকে কাতার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতা করে ইতোমধ্যেই তেহরানকে রাজনৈতিক সমর্থন জোগাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে ইরান ট্রানজিট ফি আদায় করবে। তবে কাতারের জাহাজগুলোকে কোনও ফি দিতে হবে না। তবে ইরাকি জাহাজের ওপর কোনও টোল বসানো হবে কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

 

অস্ট্রিয়ার সাবেক সামরিক অ্যাটাশে ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ উলফগ্যাং পুসতাই আল জাজিরাকে বলেন, এটি তেহরানের একটি অত্যন্ত কৌশলগত পদক্ষেপ। এই উদ্যোগ সফল হলে ইরান বিশাল রাজস্ব আয় করতে পারবে। কারণ চীন হলো ইরানের অপরিশোধিত খনিজ তেলের বৃহত্তম ক্রেতা, যা ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ ক্রয় করে থাকে।

 

তিনি আরও যোগ করেন, কাতারের ওপর কোনও ট্রানজিট ফি না বসিয়ে এবং ভারতকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইরান ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

চার দেশের জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

তেল ও গ্যাস রফতানির জন্য এই চারটি দেশই হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তেল বিশ্লেষণ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মুয়ু শু জানান, গত অক্টোবর মাসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক যে ১ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়েছে, তার ৪২ শতাংশ গেছে চীনে এবং ১৩ শতাংশ গেছে ভারতে।

লুন্ড ইউনিভার্সিটির ইরানি বিশ্লেষক রুজবেহ পারসি বলেন, ভারতের জন্য উপসাগরীয় তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বড় ধরনের ক্ষতি ছিল। অন্যদিকে ইরান যে ওষুধ নিজে তৈরি করতে পারে না, ভারত সেই ওষুধের একটি বড় উৎপাদক। আবার কূটনৈতিকভাবে ওয়াশিংটনের কাছাকাছি থাকলেও ভারত ও কাতার দুটি দেশই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিতে হতাশ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আগেই জানিয়েছিল যে তাদের নৌ-অবরোধ মূলত ইরানের বন্দরে প্রবেশকারী বা বের হওয়া জাহাজের ওপর প্রযোজ্য। সাধারণ ও মানবিক ত্রাণবাহী জাহাজ তল্লাশি সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে। তবে বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসতাই উল্লেখ করেন, ইরান যদি তাদের বন্দর ব্যবহারকারী চীনা ও ভারতীয় জাহাজকেও বিধিনিষেধের বাইরে রাখে, তবে আমেরিকার নৌ-অবরোধ কার্যকারিতা হারাতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা