যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে প্রথম মুসলিম আমেরিকান হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করার পর বিজয়ী ভাষণে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের পর বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন এল-সাইয়েদের স্ত্রী সারাহ জুকাকু এবং তার ভারতীয় পারিবারিক শিকড়।
পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সারাহ জুকাকু মিশিগানে জন্মগ্রহণ করলেও তার পরিবার মূলত ভারতের কর্ণাটকের উপকূলীয় শহর ভাটকালের বাসিন্দা। তার বাবা ড. তাইয়েব জুকাকু একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ, যিনি ১৯৮০-এর দশকে চিকিৎসাবিদ্যা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) মিশিগান চ্যাপ্টারের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য এবং ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সারাহর দাদা জেএইচ শামসুদ্দিন জুকাকু একজন প্রখ্যাত আইনজীবী ছিলেন, যিনি তৎকালীন মহীশূর রাজ্যের ডেপুটি অর্থমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সারাহর পরিবার শতাব্দী প্রাচীন নাওয়ায়াত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যাদের ঐতিহাসিকভাবে আরব ও পারস্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষেই এল-সাইয়েদের সঙ্গে পরিচয় হয় সারাহর। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে দুজনের যোগাযোগের পর ২০০৬ সালের মে মাসে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঘরে এমালি ও সেরিন নামে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। সারাহ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি অ্যান আর্বারে মাইন্ড ওয়ার্ক সাইকিয়াট্রি নামে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের ভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এল-সাইয়েদ রসিকতা করে বলেছিলেন, শুনুন, ২০ বছর ধরে আমি দক্ষিণ এশীয় (দেশি) পরিবারে বিবাহিত। এখন আমার মনে হয়, আমি আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয়! আমি সারাজীবন দেশি নারীদের দিয়েই পরিবেষ্টিত, আমার দুটি দেশি মেয়ে এবং একজন দেশি স্ত্রী রয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে সারাহও বেশ সাহসের সঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন, আমাকে ছাড়া আর কেউ তাকে কী করতে হবে তা বলতে পারে না!
নির্বাচনি প্রচারণাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সাইয়েদের পাশাপাশি সারাহ জুকাকুকে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প নিজের ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ছবির পাশে এল-সাইয়েদ ও সারাহ জুকাকুর একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন আমেরিকা’।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
