Image description

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে, তার প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছর কংগ্রেসের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

গত মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর) নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফল বলছে, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। বেশ বড় ব্যবধানেই জিততে চলেছে তারা।

এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়তে পারে।

ডেমোক্র্যাটরা জিতলে কী হবে?

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যে কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেই ওয়াশিংটনে আইন প্রণয়নের কাজ আরও জটিল হয়ে উঠবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় অংকের ব্যয় ও নীতিগত পরিবর্তন অনুমোদনে বাজেট পুনর্মিলন প্রক্রিয়া (বাজেট রিকনসিলিয়েশন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু কংগ্রেসের দুই কক্ষ ভিন্ন দলের নিয়ন্ত্রণে গেলে এ প্রক্রিয়ায় দলীয় উদ্যোগে আইন পাস করা কঠিন হবে।

তখন আইন পাস করতে দুই দলের সমঝোতা প্রয়োজন হবে।

সরকারি ব্যয় অনুমোদন, প্রতিরক্ষা বাজেট এবং জাতীয় ঋণের সীমা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিরোধ বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এক দলের হাতে এবং হোয়াইট হাউজ অন্য দলের হাতে থাকলে বাজেট ও ঋণসীমা নিয়ে দর-কষাকষি বেড়ে যায়। এতে সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

হোয়াইট হাউজের বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারে।

বিশেষ করে হোয়াইট হাউজ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা।

কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে সমন জারির ক্ষমতা থাকে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তথ্য বা নথি দিতে বাধ্য করার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা এ ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে।

দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে কী হবে?

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের দলীয় অবস্থান তুলে ধরতে বাজেট ও নীতিগত প্রস্তাব আনতে পারে। এসব প্রস্তাব আইনে পরিণত না হলেও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দলটির রাজনৈতিক প্রচারে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ট্রাম্পের হাতে থাকবে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা। ফলে ডেমোক্র্যাটদের পাস করা কোনো বিল আইনে পরিণত হওয়া কঠিন হতে পারে।

সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত জরুরি আইন পাসের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা তৈরি হলেও হোয়াইট হাউজের সঙ্গে সমঝোতা প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া সিনেটে কোনো বিল পাসের ক্ষেত্রে সাধারণত ৬০ ভোটের বাধা রয়েছে। দুই দলের সহযোগিতা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করা কঠিন হতে পারে।

নির্বাহী আদেশ বাড়াতে পারেন ট্রাম্প

কংগ্রেসে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের ব্যবহার বাড়াতে পারেন বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।

কংগ্রেসের মাধ্যমে কোনো নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে প্রেসিডেন্ট নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে নির্বাহী আদেশেরও সাংবিধানিক ও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা একটি বা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের নীতিগত উদ্যোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: সিএনবিসি