জাপানের ফুকুই শহরের মিয়ামা এলাকায় ২০২০ সালে ফসলের ক্ষেতে হানা দেয়া বানরদের তাড়িয়ে স্থানীয় ‘বীরাঙ্গনায়’ পরিণত হন তিন বৃদ্ধা। তারা হলেন মাসাকো ইশিমুরা (তখন ৭৪ বছর), তাতসুকো কিনোশিতা (৬৮) ও মিয়ুকি ই (৬৭)। বানর তাড়ানোর বিষয়ে জাপান এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভের একটি প্রশিক্ষণ ক্লাসে অংশ নেয়ার পর ২০২০ সালের মে মাসে তারা ‘মাঙ্কি বাস্টার্স’ নামে একটি দল গঠন করেন। ২০১৫ সাল থেকে বানরগুলো স্থানীয় কৃষকদের পেঁয়াজ, বেগুন, সয়াবিন ও আলুর ফসল নষ্ট করছিল।
এলাকায় কোথাও বানর দেখা যাওয়ার খবর পেলেই তারা সব কাজ ফেলে ছুটে যান। অনেক সময় ঘরের অ্যাপ্রন পরা অবস্থাতেই বেরিয়ে পড়েন। এয়ারগান দিয়ে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে বানর তাড়ানোর চেষ্টা করেন তারা। এ সময় প্রতিবেশীরাও পটকা ফাটিয়ে ও চিৎকার করে বানরগুলোকে ভয় দেখাতে সহায়তা করেন।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জাপান ডেইলি এমন তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বানর ঠেকাতে জমিতে কাকতাড়ুয়া ও বিশেষ জাল ব্যবহার করেও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে এয়ারগান হাতে বানর তাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ওই তিন নারী।
এলাকার কেউ বানর দেখার খবর দিলেই ‘মাঙ্কি বাস্টার্স’ সদস্যদের জানানো হয়। সাধারণত দিনের বেলায় তারা ঘরের কাজ কিংবা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু বানর দেখার খবর পেলেই সব কাজ ফেলে এয়ারগান নিয়ে ছুটে যান ঘটনাস্থলে। অনেক সময় দ্রুত পৌঁছাতে ঘরের অ্যাপ্রন পরেই বেরিয়ে পড়েন তারা।
ঘটনাস্থলে গিয়ে বানরদের লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়েন তারা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও পটকা ফাটিয়ে ও চিৎকার করে বানরগুলোকে ভয় দেখান। কখনো কখনো কেউ কেউ কোদাল হাতে বানরের পেছনেও ধাওয়া করেন।
স্থানীয় কো-অপারেটিভ জানিয়েছে, শুরুতে বানরগুলো প্রায় ২০টির একটি দলে চলাফেরা করত। পরে দলটি ভেঙে চার-পাঁচটি ছোট দলে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে বানর তাড়ানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে ‘মাঙ্কি বাস্টার্স’সহ স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে বানরের উৎপাত কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু দলটির সদস্য ইশিমুরা জানিয়েছেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বানরগুলো আবার এলাকায় ফিরে আসে।
ইশিমুরা বলেন, ‘মিয়ামা এলাকায় অনেক বয়স্ক মানুষ বসবাস করেন। তাদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য জমিতে চাষাবাদ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এলাকার সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।’
স্থানীয় ফসলের পাশাপাশি মানুষের জীবিকা রক্ষায় ‘মাঙ্কি বাস্টার্স’ সদস্যদের এই দৃঢ় উদ্যোগের প্রশংসা করছেন এলাকার বাসিন্দারা।