ভারতের উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে একটি হোটেলের রুমের সামনে হঠাৎ ঢলে পড়ে ২৮ বছর বয়সি এক নববধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে করিডোরে তার লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরায়।
নিহত ওই নারীর নাম মুসকান। মাত্র চার মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল। ঘটনার সময় তিনি স্বামীর সঙ্গে ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন। মুসকানের পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে।
গত সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে ঝাঁসির ‘ঋষভ হোটেল’-এ ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হোটেলের করিডোর দিয়ে তিন ব্যক্তি একটি কক্ষের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। মুসকানের স্বামীসহ দুজন আগে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং পেছনে ছিলেন মুসকান। তবে দরজার কাছাকাছি পৌঁছাতেই তিনি হঠাৎ করিডোরে ঢলে পড়েন।
মুসকান পড়ে যাওয়ার পরপরই তার স্বামী বের হয়ে তাকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসকানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুসকানের বাবার বাড়ি ঝাঁসিতে, তবে বিয়ের পর তিনি মধ্যপ্রদেশের বিদিশায় থাকতেন। পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি তার স্বামী নিলেশের সঙ্গেই ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। চলতি বছরের ২৯ জুন তাদের বিয়ে হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ স্বামী নিলেশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেছেন, নিলেশ পূর্বেও বিবাহিত ছিলেন, যা তিনি গোপন রেখেছিলেন।
মরদেহটি ইতোমধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঝাঁসির পুলিশ সুপার (সিটি) প্রীতি সিং জানান, সিপ্রি বাজার থানা পুলিশ জেলা হাসপাতাল থেকে তথ্য পায় যে এক নারীকে মৃত অবস্থায় সেখানে আনা হয়েছে।
তিনি জানান, পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে নিলেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিলেশ পুলিশকে জানান, তারা আগের রাতে ঋষভ হোটেলে উঠেছিলেন এবং সকালে হোটেল ছেড়ে দেওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে।
স্বামী পুলিশকে দাবি করেন, কক্ষে যাওয়ার সময় মুসকান হঠাৎ পড়ে যান। এরপর হোটেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে অটোরিকশায় করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা প্রীতি সিং আরও জানান, নিহতের বাবার করা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বামীকে দায়ী করে পরিবারের ক্ষোভ
মুসকানের বাবা রামজি লাল অহিরওয়ারের অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তার স্বামী।
তিনি জানান, গত ২৩ অক্টোবর রাতে নিলেশ ঝাঁসিতে আসেন এবং পরদিন খালার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মুসকানকে সঙ্গে করে নিয়ে যান।
তবে অহিরওয়ারের দাবি, খালার বাড়ি না নিয়ে নিলেশ মুসকানকে ঋষভ হোটেলে তোলেন। পরে পরিবার জানতে পারে যে ২৩ থেকে ২৪ অক্টোবরের জন্য আগে থেকেই হোটেলের রুম বুকিং দেওয়া হয়েছিল।
রামজি লালের বক্তব্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ফোন পেয়ে তারা একটি হোটেলে যান এবং পরে জানতে পারেন মুসকানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জেলা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে নিলেশ তাদের একেক সময় একেক ভুল তথ্য দিচ্ছিলেন। হাসপাতালে গিয়ে তারা মুসকানের লাশ দেখতে পান।
নিলেশ দাবি করেছিলেন মুসকান পড়ে গিয়ে মারা গেছে, তবে এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ নিহতের পরিবার।
আগের বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ
রামজি লাল অহিরওয়ার আরও জানান, বিয়ের কিছুদিন পর মুসকান বাবার বাড়িতে জানিয়েছিল যে, নিলেশ আগে একবার বিয়ে করেছিলেন, যা বিয়ের আগে গোপন রাখা হয়েছিল।
তার দাবি, নিলেশের সেই আগের স্ত্রী ইন্দোরে থাকেন এবং নিলেশ প্রায়ই মুসকানের সঙ্গে তার তুলনা করতেন ও বলতেন—আগের স্ত্রীই নাকি বেশি ভালো ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।