Image description

ফ্রান্সে গত সপ্তাহধরে চলমান বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তার পদত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (১৮ অক্টোবর) নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। তবে ম্যাক্রোঁর কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার প্রয়োজন বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট তার পদত্যাগ গ্রহণ করেননি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নামেন। গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্যারিস, লিয়ঁ ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মার্সেইয়ে একদল বিক্ষোভকারী অল্প সময়ের জন্য শহরের সিটি হলে ঢুকে পড়েন। লিয়ঁ শহরে পর্যটন দপ্তরের একটি ভবনে এবং লিমোজ শহরের সিটি হলে আগুন দেওয়া হয়।

রোববার সন্ধ্যায়ও প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিবিসির প্যারিস প্রতিনিধি হিউ স্কোফিল্ড জানান, শাতলে এলাকার আশপাশে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। ওই এলাকায় অনেক দোকান রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ ঘটনায় পুলিশ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এবং পাঁচটি দোকানে লুটপাটের কথা জানায়। শনিবারের তুলনায় রোববার সহিংসতার মাত্রা কম থাকলেও মধ্যরাতের পরও অস্থিরতা চলতে থাকে।

সহিংসতার ঘটনায় ফরাসি সরকার রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। বিরোধী দলের রাজনীতিকেরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক করবেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা) বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সহিংসতার পর অর্থনীতি, বিমা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।

এদিকে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর গুরুতর হামলার প্রতিবাদ জানাতে একদল মেয়র স্থানীয় সময় দুপুরে নিজ নিজ শহরের টাউন হলের সামনে সমবেত হবেন।

ফ্রান্সের বাইরেও ইউরোপের কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। ইতালি ও আলবেনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। আলবেনিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় রক্ষায় নিয়োজিত দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর ও পেট্রলবোমা ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা।