ভারতের নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে লন্ডনে বিক্ষোভ করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ প্রবাসী ভারতীয়রা। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট স্কয়ারে দাঁড়িয়ে ধ্রুব রাঠি বলেন, ভারতে প্রতিবাদ করার অধিকার নেই, অথচ লন্ডনে দাঁড়িয়ে অবাধে কথা বলা যাচ্ছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে লন্ডনে বিক্ষোভ দেখান প্রবাসী ভারতীয়দের একাংশ।
স্থানীয় সময় লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের কাছে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উদ্যোগে ছিল ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের যুব শাখা। ব্রিটেনে থাকা একাধিক ভারতীয় ছাত্র ও প্রবাসী সংগঠনও এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে। তাদের মধ্যে ছিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার ব্রিটেন শাখা এবং সাউথ এশিয়া সলিডারিটি গ্রুপ। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন পোস্টার ও পতাকা। বিক্ষোভকারীরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনাও পাঠ করা হয়।
বিক্ষোভে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ধ্রুব রাঠি বলেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা চান না। তিনি লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে দাঁড়িয়ে ভারতীয় এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন। তার দাবি, দিল্লিতে প্রতিবাদ ঠেকাতে ৩৫ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, আন্দোলনকারীদের মারধর এবং নিজের বাড়ি থেকে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
দিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচির আগে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক হওয়ার পর প্রায় ১৮ ঘণ্টা বাদে মুক্তি পেয়েছিলেন ধ্রুব রাঠী। সেই ঘটনাকে তিনি অপহরণ বলে দাবি করেছিলেন।
তবে লন্ডনের কর্মসূচিতে শুধু রাঠীর সমর্থকেরাই ছিলেন না। তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে সেখানে জড়ো হয় অন্য একটি দল। তারা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থনে স্লোগান দেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা