ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে সাধারণত ভোরে মাছ ধরতে বের হওয়া কাঠের নৌকাগুলো থেকে ভেসে আসে স্থানীয় লোকসংগীত ‘বান্দারি’র সুর। তবে এ সপ্তাহে জেলেদের লক্ষ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। মাছের বদলে তারা সমুদ্র থেকে তুলে আনছেন আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে বিস্ফোরণের পর গত ১৪ অক্টোবর ডুবে যাওয়া ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ থেকে সাগরে ছড়িয়ে পড়ে মালামাল। সেসব সংগ্রহ করতে শত শত মানুষ ছোট নৌকা ও উদ্ধারকারী জলযান নিয়ে হরমুজ প্রণালির উষ্ণ পানিতে নেমে পড়েন।
একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছি। শুনেছি একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। তাই আইফোন ও সুগন্ধি সংগ্রহ করতে যাচ্ছি।’
জাহাজটির নিবন্ধনকারী দেশ সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, জাহাজটিতে আগুন লাগার পর এটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের কেউ আহত হননি।
তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি, জাহাজটি অননুমোদিত ও বিপজ্জনক পথে চলাচলের সময় সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে। এতে আগুন ধরে যায় এবং দুই হাজার ৫০০টির বেশি কনটেইনার নিয়ে জাহাজটি ডুবে যায়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কয়েক ডজন জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে এর মধ্যে খুব কম জাহাজই ডুবেছে।
‘জিএফএস প্রাইড’ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় জাহাজ। যুদ্ধ শুরুর পর এটি ডুবে যাওয়া তৃতীয় জাহাজ। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর হামলায় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’ জাহাজটি ডুবে যায়।
প্রকাশিত ভিডিওতে আধা ডুবে থাকা কনটেইনারের ফাঁক দিয়ে বহু নৌকাকে চলাচল করতে দেখা যায়। ঢেউয়ের মধ্যে থেকে বাক্স টেনে তুলছিলেন নৌকায় থাকা লোকজন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট নৌকা একটি পূর্ণ আকারের পণ্যবাহী কনটেইনার টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
যুদ্ধ শুরুর পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাহাজগুলোকে প্রণালি এড়িয়ে চলার সতর্কতা দেওয়ার পাশাপাশি ভাসমান কনটেইনারের আশপাশে সতর্কভাবে চলাচল করতে স্থানীয় জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরানি নৌবাহিনী।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ