Image description
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত বুধবার জানিয়েছেন, নিজের ব্যস্ত দৈনন্দিন সূচির পাশাপাশি গৃহস্থালির কাজকর্ম সামলাতে তিনি সম্ভবত তার পূর্বসূরি পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়ে আরও তিন থেকে চার ঘণ্টা বেশি সময় ব্যয় করেন।
 
 
গত বছর জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেন, ‘সকালে আমি গোসল করি, নাশতা তৈরি করি, তারপর থালাবাসন ধুই। মেকআপ নেয়ার কথা না-ই বা বললাম।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এসব কাজ করতে গিয়ে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়ে আমি তিন থেকে চার ঘণ্টা বেশি সময় ব্যয় করছি।’
 
নিজেকে কাজের প্রতি অতি-উৎসর্গীকৃত (ওয়ার্কাহোলিক) দাবি করা তাকাাইচি এর আগেও জানিয়েছেন, তিনি রাতে মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান এবং কোনো কোনো দিন রাত ৩টায় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করেন।
 
জাপানে নারী ও পুরুষের গতানুগতিক সামাজিক ভূমিকা বেশ কঠোর এবং রাজনীতিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব আশঙ্কাজনকভাবে কম। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নিম্নকক্ষ নির্বাচনে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ৬৮ জন নারী আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হন।
 
ক্ষমতাসীন জোটের এক সদস্য তাকাাইচিকে পার্লামেন্ট অধিবেশনে প্রথাগতভাবে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তার সময় ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত আলোচনা উঠে আসে।
 
জাপানি নেতাদের জন্য দিনে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা বিরোধী আইনপ্রণেতাদের কড়া প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া কিংবা পার্লামেন্টে বসে থাকা বেশ সাধারণ বিষয়।
 
 
জাপান ইনোভেশন পার্টি–যা ‘নিপ্পন ইশিন নো কাই’ নামেও পরিচিত–তার আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিতা একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ২০২২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ৭২ দিন পার্লামেন্ট অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন, যেখানে যুক্তরাজ্যে তা ছিল ৫০ দিন এবং জার্মানিতে ১৩ দিন।
 
আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত আলোচনার গুরুত্ব স্বীকার করে ফুজিতা বলেন, ‘আমাদের নেতাকে পার্লামেন্টে এত দীর্ঘ সময় আটকে রাখার বিষয়টির সঙ্গে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সামঞ্জস্য নেই।’
 
গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর (X) একটি পোস্টে তাকাাইচি লিখেছিলেন, ‘কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়িতে আনা কাগজপত্র এবং পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর সম্পর্কিত নথিগুলো খতিয়ে দেখতে গিয়ে আমার ভোর হয়ে যায়।’
 
গত বুধবার তিনি বলেন, ‘বাড়ি নিয়ে যাওয়া এই কাগজের স্তূপ গভীর রাতে পড়া আমি সত্যিই উপভোগ করি।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘তবে দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা কিংবা এই দেশ নিয়ে আমার বৃহৎ রূপকল্প সম্পর্কে শান্ত মাথায় গভীরভাবে চিন্তা করার মতো সময় বের করা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।’

সূত্র: জাপান টাইমস