সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) হামলার পর বিমানবন্দরটি খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ইরান যুদ্ধের বিস্তারের মধ্যে সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এপি দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার পর কর্তৃপক্ষ যাত্রী ও কর্মীদের সরিয়ে নেয়। ওই দুই কর্মকর্তার একজন জানান, বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যজন বিমানবন্দর খালি করে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
রিয়াদের বাসিন্দা আহমেদ সাঈদ এপিকে জানান, তিনি অন্তত দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বিস্ফোরণের শব্দে রাজধানী কেঁপে ওঠে।
এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। এতে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে বলা হয়েছে।
এর মাত্র দুই দিন আগে একই বিমানবন্দরে হামলায় একজন পাইলটসহ সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হন। গত এক সপ্তাহে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে শনিবারের হামলার দায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি।
সৌদি আরবে বিদেশি গণমাধ্যমের কার্যক্রম তদারককারী সরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশনও এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে এপির অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
প্রতিবেশী ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর পর বিমানবন্দরটিতে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকে। এর আগে বুধবারের হামলাসহ কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছিল হুতিরা। বুধবারের হামলায় সুদানের একজন নাগরিক নিহত হন।
এদিকে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে। লোহিত সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ঠেকাতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। তাদের সহায়তায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালাচ্ছে।
হুতিদের সাম্প্রতিক অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারির সক্ষমতা বাড়াতে পারে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে এ সামুদ্রিক করিডরের গুরুত্ব বেড়েছে।
হুতিরা এপি ও অন্যান্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তাদের অবরোধের লক্ষ্য সৌদি আরবের জাহাজ। তাদের দাবি, নিজেদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের প্রতিশোধ নিতে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে পরিস্থিতির কারণে আরও বড় পরিসরে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতিরা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার অভিযান শুরু হলে ওই পর্যায়ের হামলা বন্ধ হয়।
সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাড়তে থাকায় দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রের সহায়তা চেয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা ভালো নয়’ এবং ‘আমি খুশি নই’।
তবে সর্বশেষ হামলার জবাব দিতে সৌদি আরবকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে—এমন কোনো ইঙ্গিত তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা অভিযানসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেওয়া থেকে জনগণকে সতর্ক করেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধ এবং সেগুলোর আঘাতের স্থানসংক্রান্ত তথ্য ধারণ, প্রকাশ বা শেয়ার করলে আইনি দায়বদ্ধতার মুখে পড়তে পারেন।’