ভারতের নির্বাচনে কথিত কারচুপি ও ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, অভিযোগ শুনে রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি; বরং প্রমাণ চেয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি এবং রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্র রাহুলের বক্তব্যকে ভুল বলে দাবি করেছে। খবর এনডিটিভির।বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচনে কীভাবে কারচুপি হয়েছে, তার সব প্রমাণ বিরোধীদের কাছে রয়েছে এবং গোটা দেশ তা দেখেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
তবে রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রের বক্তব্য, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা দুর্ভাগ্যজনক। ফলে রাহুলের বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ভোট চুরির অভিযোগ স্বীকার করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের আগে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে মিছিল করেন। পরে একটি ছোট প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি জানায়।
বিরোধীদের স্মারকলিপিতে চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সেই আইন বাতিল, যে আইনে নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ; ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত ও বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল; সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা; এবং গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির প্রমাণ রয়েছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন, সেগুলো বাতিল করা।
‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ’ স্লোগান
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বিরোধী নেতাদের ১০ জন অংশ নেন। অন্য নেতারা রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে কর্তব্যপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের হাতে ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেও স্লোগান দেন তাঁরা।
বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি ভবনকে রাজনীতিতে টানার অভিযোগ বিজেপির
বিরোধীদের কর্মসূচির সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে এনেছে।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি এবং ভিত্তিহীন বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়াই কংগ্রেসের উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে বিরোধীদের কর্মকাণ্ডে সেই সন্দেহ আরও বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীরা নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানালেও বিজেপি তাদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে।
শীর্ষনিউজ