Image description

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমার থেকে ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রধান বৈদেশিক বিনিয়োগকারী ও বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে বাজার দখলে নিয়েছে চীন। এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করল বেইজিং।

মিয়ানমার ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইয়ারবুক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো)।

চলতি বছরের মার্চে শেষ হওয়া ২০২৫ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদন করেছে মিয়ানমার। এটি আগের বছরের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৩১.৫ শতাংশ কম। তবে চীনের তৈরি ক্যাপিটাল বা বিনিয়োগের প্রবাহ ২.১ গুণ বেড়ে ২০ কোটি ১১ লাখ (২০১.১ মিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ৪২.৬ শতাংশই আসছে চীন থেকে।

প্রতিবেদনে ডিরেক্টরেট অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক বিনিয়োগের কারণে এতদিন শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুর ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। আর হংকংয়ের অবদান ছিল ৫ কোটি ৪৯ লাখ ডলার।

চীন ও হংকং থেকে আসা এই মূলধনের একটি বড় অংশই হালকা শিল্পে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও জুতার কারখানাগুলোতে।

আলোচ্য সময়ে চীনে মিয়ানমারের রপ্তানি ২৪.৭ শতাংশ বেড়ে ৪৩১ কোটি ২০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে আমদানি ৪২.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯৫ কোটি ২০ লাখ ডলারে। এর অর্থ হলো, মিয়ানমারের মোট বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের বেশি অর্থাৎ ৩৫ শতাংশই এখন চীনের দখলে, যা আগের বছর ছিল ২৭.৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত সংঘাতের কারণে বাণিজ্য এখন বিকল্প দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানের মধ্যে চীনের সঙ্গে উত্তর শান রাজ্যের যেসব অঞ্চল ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেগুলোর সীমান্ত বাণিজ্যের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে চলতি সপ্তাহে প্রচারিত একটি প্রামাণ্য সিরিজে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী চারটি এলাকায় জমে ওঠা স্ক্যাম (অনলাইন প্রতারণা) সিন্ডিকেটগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। কোকাং অঞ্চলের স্ক্যাম সাম্রাজ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদের শিরোনাম হলেও, এই প্রামাণ্যচিত্রটিতে মূলত তিনটি অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত কেন্দ্র— ওয়া, মংলা এবং মুসের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এগুলো দমনে বেইজিংয়ের ‘সাফল্য’ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রামাণ্যচিত্রে আধাস্বায়ত্তশাসিত ওয়া অঞ্চলকে আঞ্চলিক স্ক্যাম অর্থনীতির আঁতুড়ঘর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ব্যবসার চরম উত্তাল সময়ে কেবল মং পক এলাকাতেই ২৬৫টি স্ক্যাম সেন্টার চালু ছিল, যার সঙ্গে জড়িত ছিল প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।

চলতি সপ্তাহে নেপিদো জানায়, দক্ষিণ শান রাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রত্যন্ত হোপং উপত্যকা থেকে ৮৭ স্ক্যামারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ চীনা এবং ১২ জন মিয়ানমারের নাগরিক। তারা সেখানে অস্থায়ী তৈরি কুঁড়েঘরে ডজন ডজন কম্পিউটার, পাঁচশর বেশি ফোন এবং স্টারলিংক ব্যবহার করে কাজ চালাচ্ছিল।