Image description

ককরোচ জনতা পার্টির পর এবার ভারতের রাজনীতিতে লাল হিট জনতা পার্টি নামে আরেকটি দলের উত্থান ঘটেছে। দেশটিতে চলমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের বিক্ষোভের মধ্যেই সদ্য প্রকাশ্যে আসা দলটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমর্থনে ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মধ্য দিল্লির জনপথে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে আগামীকাল নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ নামের সংগঠনটি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির পাল্টা অবস্থান থেকে নামটি বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘লাল হিট’ ভারতে প্রচলিত একটি পোকামাকড় দমনের পণ্যের ব্র্যান্ড।

বিক্ষোভে সংগঠনটির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত আয়ান ভাটনগর বলেন, ‘কেউ বাইরের কাউকে গালাগাল করলেও আমরা সাধারণত তাকে থামানোর চেষ্টা করি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের পরিবারেরই একজন, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের বীর, সেনাসদস্য ও দিল্লি পুলিশের সদস্যদের গালাগাল বন্ধ করতে হবে এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বিক্ষোভকারীরা বলেন, বর্তমান প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মাধ্যমে ব্যবস্থার পরিবর্তন আনার চেষ্টা সঠিক পন্থা নয়।

সিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার আড়ালে ভোটার তালিকায় কারসাজি এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ নথি ফর্ম-৬ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই সদস্যকে পাশ কাটানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সিজেপি ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে লাখ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দলটি দেশের গণতন্ত্র ফেরাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামীকাল দিল্লীতে সর্বাত্মক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তারা।

সিজেপির এই বিক্ষোভের আগে টানা তিন দিন ধরে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের নেতারা। এ সময় মধ্য দিল্লির বেশ কিছু এলাকায় কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়। ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন, মেট্রোর প্রবেশপথ বন্ধ রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসানোর কারণে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটে।

‘লাল হিট জনতা পার্টি’ জানিয়েছে, সংবিধান, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা রক্ষা করাই তাদের বিক্ষোভের লক্ষ্য। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, সিজেপির কর্মকাণ্ড বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।

ভাটনগর বলেন, তারা যেসব কর্মকাণ্ডকে আপত্তিকর মনে করেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন।

সংগঠনটি তরুণ নাগরিকদের, বিশেষ করে জেনারেশন জেডের সদস্যদের, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি পন্থায় মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির মূলমন্ত্র, ‘সবার আগে জাতি, সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রই আমাদের পরিচয়।’

বিবৃতিতে সংগঠনটির আদর্শ তুলে ধরে বলা হয়, বিরোধিতায় দৃঢ়, কর্মকাণ্ডে শান্তিপূর্ণ, জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লাল হিট জনতা পার্টির বিক্ষোভকারীদের পরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পুলিশ বাসে আটকে রাখা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়ও তারা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।