Image description

মঙ্গল গ্রহে ভোরের আলোয় আলোকিত খাড়া পাহাড়ের বিরল ছবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবটযান কিউরিওসিটি। ছবিতে বাতাসের ক্ষয়ে তৈরি পাহাড়ের খাঁজ ও গঠন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলের এসব পাহাড়ের এত বিস্তারিত ছবি আগে তোলা হয়নি।

 

গত ১১ আগস্ট কিউরিওসিটির মাস্টক্যাম যন্ত্র দিয়ে ছয়টি ছবি তোলা হয়। পরে ছবিগুলো জোড়া দিয়ে একটি বিস্তৃত দৃশ্যপট তৈরি করা হয়। গত ৬ অক্টোবর ছবিটি প্রকাশ করে নাসা।

 

ছবিটিতে মঙ্গলের ভোরের আলোর স্বাভাবিক রূপ ধরে রাখা হয়েছে। নাসা জানিয়েছে, ছবিটি প্রক্রিয়াজাত করার সময় সাদা রঙের ভারসাম্য ঠিক করা হয়নি। ফলে সকালের আলোয় পাহাড়ের প্রকৃত চেহারা ফুটে উঠেছে।

 

দূরের পাহাড়ের খাঁজে সকালের আলো পড়ায় সেগুলোর গঠন স্পষ্ট হয়েছে। নাসার বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে এসব ভূপ্রকৃতিকে এত বিস্তারিতভাবে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।

 

নতুন ছবিটি মঙ্গলের পাহাড় কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা বুঝতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করতে পারে।

 

বাতাসের ক্ষয়ে তৈরি পাহাড়

ছবিতে দিগন্তজুড়ে দেখা যাওয়া লম্বা, খাঁজকাটা শৈলশিরাগুলোকে বলা হয় ইয়ারড্যাং। বাতাসের দীর্ঘদিনের ক্ষয়ে এ ধরনের ভূপ্রকৃতি তৈরি হয়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, মাউন্ট শার্পের উত্তর-পশ্চিম অংশে এই ভূপ্রকৃতির স্তর প্রায় ১০ মাইল বা ১৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

 

তিন মাইল উঁচু মাউন্ট শার্পে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আরোহণ করছে কিউরিওসিটি। নাসা জানিয়েছে, আগস্টের শেষ দিকে রোভারটি প্রায় এক কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায়। মঙ্গল গ্রহে কোনো রোভারের পৌঁছানো সর্বোচ্চ উচ্চতা এটি।

 

ইয়ারড্যাংয়ের আরও কাছে পৌঁছালে কিউরিওসিটি থেকে এমন আরো ছবি পাওয়ার আশা করছে নাসা। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পাহাড় ও শৈলশিরাগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করবেন।

 

মঙ্গলে প্রাণের উপযোগী পরিবেশের খোঁজ

কিউরিওসিটি ও পারসিভিয়ারেন্স নাসার দুটি রোবটযান। গাড়ির আকারের এই যান দুটি কয়েক বছর ধরে মঙ্গলের পৃষ্ঠে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। গ্রহটিতে অতীতে প্রাণের অস্তিত্বের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, তার প্রমাণ খুঁজছে তারা।

 

পারসিভিয়ারেন্স বর্তমানে জেজেরো গহ্বর এলাকায় কাজ করছে। অন্যদিকে, কিউরিওসিটি মঙ্গলের আরেকটি অঞ্চলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। দুটি রোভারের অবস্থানের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ৩০০ মাইল বা ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার।

 

২০১১ সালের নভেম্বরে মঙ্গলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে কিউরিওসিটি। ২০১২ সালের আগস্টে এটি গেইল গহ্বরে অবতরণ করে। মঙ্গলের দক্ষিণের গর্তযুক্ত উচ্চভূমি ও উত্তরের তুলনামূলক মসৃণ সমভূমির সীমানার কাছে অবস্থিত এই গহ্বরের বয়স আনুমানিক ৩৭০ কোটি বছর।

 

গেইল গহ্বরে অনুসন্ধান চালিয়ে কিউরিওসিটি এখন পর্যন্ত ৪২টি শিলার গুঁড়ার নমুনা সংগ্রহ করেছে। রোবটযানটির বাহুর প্রান্তে থাকা ড্রিল দিয়ে এসব নমুনা নেওয়া হয়েছে।

 

মাউন্ট শার্পে আরোহণের পাশাপাশি কিউরিওসিটি মঙ্গলে অতীতে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, তার প্রমাণ খুঁজছে। এই অভিযানে এরই মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগে শনাক্ত না হওয়া জৈব যৌগের উপস্থিতি সম্পর্কে পাওয়া তথ্য।

 

সূত্র: ইউএসএ নিউজ