Image description

যুদ্ধ থামানোর আলোচনা চলছে, আবার একই সময়ে বাড়ছে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের মধ্যেই কাতারের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলছে বার্তা আদান-প্রদান। তেহরান দিয়েছে সাত দিনের আস্থা তৈরির প্রস্তাব, ওয়াশিংটনও তার জবাব দিয়েছে। কিন্তু কে আগে কী পদক্ষেপ নেবে- এই প্রশ্নেই আটকে আছে সমঝোতার পথ।

ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে। একদিকে যুদ্ধের ঝুঁকি ও হরমুজ ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে আলোচনার টেবিলে ফেরার চেষ্টা। প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান থাকলেও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। প্রশ্ন উঠছে, দুই দেশ কি সত্যিই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, নাকি নতুন সংঘাতের আগে চলছে কৌশলগত দর-কষাকষি?

 

যুদ্ধের সাত মাস, কূটনীতিতে এখনো আশা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সংঘাত শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি।

এরপর কয়েক দফা সামরিক সংঘাত, যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জুনে একটি সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িকভাবে সংঘাত থামলেও জুলাইয়ে তা ভেঙে পড়ে। আবার শুরু হয় সামরিক উত্তেজনা। তবে যুদ্ধ যতই দীর্ঘ হয়েছে, কূটনীতির প্রয়োজনও তত স্পষ্ট হয়েছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি দুই পক্ষকেই নতুন করে আলোচনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর সংঘাতের প্রভাব পড়ায় শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোও দ্রুত উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও যোগাযোগ শুরু হয়। সেখানে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে- কীভাবে যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসা যায় এবং একই সঙ্গে হরমুজে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনা যায়।

হরমুজই এখন সবচেয়ে বড় দর-কষাকষি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন হরমুজ প্রণালি। ইরানের প্রস্তাবটি মূলত একটি বিনিময়ভিত্তিক কাঠামো। তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে, তেল নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেয় এবং আটকে থাকা অর্থ ছাড়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরায় চালুর পথ তৈরি হতে পারে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইরান সাত দিনের একটি আস্থা তৈরির পরিকল্পনা দেয়। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি ও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় ফেরার বিষয়ও ছিল প্রস্তাবে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অন্য জায়গায়। দুই পক্ষই চায় অন্য পক্ষ আগে পদক্ষেপ নিক।

ইরানের যুক্তি- যুক্তরাষ্ট্র আগে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করুক। অন্যদিকে ওয়াশিংটন চায়, তেহরান আগে হরমুজে নৌচলাচল স্বাভাবিক করুক এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে বাস্তব ছাড়ের নিশ্চয়তা দিক।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় মূল বিষয়গুলোর মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ থাকলেও সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন কোন পদক্ষেপটি আগে নেওয়া হবে- তার ক্রম।

ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করলেও আলোচনা থামেনি
ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে প্রথমে মনে হয়েছিল, আবারও কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কাতার দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রাখে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতারের মাধ্যমে মার্কিন প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর সেই প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি তেহরানে ফিরে যান এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। অর্থাৎ, প্রকাশ্যে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের চ্যানেল বন্ধ হয়নি। এখানেই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি রয়েছে। যদি দুই দেশ সত্যিই সম্পূর্ণ যুদ্ধের পথে এগোতে চাইত, তাহলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এত সক্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের প্রয়োজন থাকত না। আবার এটাও বলা যাচ্ছে না যে তারা সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বরং বলা যায়, দুই পক্ষই চাপ বজায় রেখে আলোচনার সুযোগ ধরে রেখেছে।

ইরানের সামনে দুই ধরনের চাপ
ইরানের জন্য এই যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক লড়াই নয়; এটি অর্থনৈতিক চাপেরও বড় পরীক্ষা। মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল রপ্তানি, বন্দর ব্যবহার এবং বৈদেশিক লেনদেনে চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাত অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় হরমুজকে তেহরান শুধু সামরিক বা ভৌগোলিক বিষয় হিসেবে দেখছে না; এটিকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছে।
তেহরানের হিসাব হলো, হরমুজে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করা সম্ভব হলে সংঘাতের চাপ কমানো যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ইরানের জন্য অতিরিক্ত ছাড় দেওয়াও সহজ নয়। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার নিয়ে কোনো একতরফা ছাড় দিতে চায় না। ফলে হরমুজের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে কতটা ছাড় দেওয়া হবে- এটি আলোচনার অন্যতম কঠিন প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যও শুধু যুদ্ধ বন্ধ করা নয়
যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল স্বাভাবিক হোক। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়, যাতে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে যেতে না পারে। অর্থাৎ, শুধু যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যথেষ্ট নাও হতে পারে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে যে কোনো সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজের নৌচলাচল এবং ভবিষ্যৎ সামরিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বিষয় থাকতে পারে। এই কারণে দুই পক্ষের মধ্যে দর-কষাকষি শুধু ‘যুদ্ধ বন্ধ হবে কি না’- এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। মূল প্রশ্ন হলো- যুদ্ধ বন্ধের পর কী ধরনের ব্যবস্থা থাকবে?

জুনের সমঝোতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমান আলোচনার পেছনে জুনের সমঝোতার অভিজ্ঞতাও বড় ভূমিকা রাখছে। জুনে একটি সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। এখন নতুন কোনো চুক্তি হলে সেটি কতটা কার্যকর থাকবে- এ প্রশ্ন তাই আগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই পক্ষ এমন একটি ধাপে ধাপে ব্যবস্থার কথা ভাবছে, যাতে প্রথমে হরমুজ ও অবরোধের বিষয়টি সমাধান করা যায় এবং পরে অন্য ইস্যুতে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়। এতে বোঝা যায়, এবার দুই পক্ষ একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান না করে ধাপে ধাপে এগোনোর পথ খুঁজছে।

কাতারের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই সংঘাতে কাতার এখন সবচেয়ে সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীদের একটি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রাজনৈতিকভাবে কঠিন হওয়ায় কাতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ করেছে। মার্কিন প্রতিক্রিয়াও কাতারের মাধ্যমেই ইরানের কাছে পৌঁছেছে।
এর আগে পাকিস্তানও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টায় ভূমিকা রেখেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের সিদ্ধান্তই নয়, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সমঝোতা হচ্ছে না কেন?
দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আস্থার সংকট। ইরান মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে আবার পরিবর্তিত হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইরান কোনো ছাড় দেওয়ার পর আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে। এ কারণে উভয় পক্ষই চায়- আগে অন্য পক্ষ বাস্তব পদক্ষেপ নিক। আর এই ‘কে আগে’ প্রশ্নটিই এখন আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত দিনের পরিকল্পনার বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা হলেও পদক্ষেপগুলোর ক্রম নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। অর্থাৎ, সমস্যা শুধু কী করতে হবে তা নিয়ে নয়; কখন, কে এবং কোন শর্তে করবে- সেটিই মূল প্রশ্ন।

হরমুজ বন্ধ থাকলে বিশ্বে কী প্রভাব পড়ে?
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে যেত বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন হরমুজে অস্থিরতা থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম, জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের বড় ওঠানামা দেখা গেছে। অক্টোবরের শুরুতেও কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতা ছিল। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বড় অংশই যুদ্ধের বিস্তার চায় না। তাদের কাছে হরমুজ শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়; এটি অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

যুদ্ধের প্রস্তুতিও কি চলছে?
কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সামরিক প্রস্তুতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এটাই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য। একদিকে কাতারের মাধ্যমে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে হরমুজকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে কোনো একটি ঘটনা পুরো আলোচনাপ্রক্রিয়াকে আবারও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এর আগে জুলাইয়েও যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছিল। ফলে এবারও কোনো সমঝোতা হলে সেটি বাস্তবায়ন এবং টেকসই করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

যুদ্ধ নাকি সমঝোতা?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি বলা কঠিন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি যুদ্ধের পথ ছেড়ে দিয়েছে। আবার এটাও বলা যায় না যে তারা কূটনীতির পথ বন্ধ করে দিয়েছে। বরং দুই দেশ এখন চাপ ও আলোচনাকে পাশাপাশি রেখে এগোচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বজায় রাখছে। ইরানও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। কিন্তু একই সময়ে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কথা বলছে এবং হরমুজ, অবরোধ ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায় কিংবা সমঝোতার নিশ্চিত সূচনা— কোনোটিই বলা যাচ্ছে না। এটি বরং দর-কষাকষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।

সামনে কী হতে পারে?
আগামী দিনগুলোতে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। দ্বিতীয়ত, হরমুজে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার জন্য কোনো ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না। তৃতীয়ত, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামোয় পৌঁছাতে পারে কি না। যদি হরমুজ, নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে ধাপে ধাপে সমঝোতা তৈরি হয়, তাহলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থেকে স্থায়ী রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আর যদি দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও না সরে এবং প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব একে অপরের ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘ হতে পারে। হরমুজে নতুন কোনো বড় সামরিক ঘটনা ঘটলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াও আবার বড় ধাক্কা খেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো কথা বলছে। সাত মাসের সংঘাতের পর এটিই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। তবে সেই আলোচনা যুদ্ধের বিকল্প হয়ে উঠবে, নাকি যুদ্ধের আগে আরেক দফা দর-কষাকষির পর্ব হিসেবে থাকবে, তা নির্ভর করছে হরমুজ, নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে তার ওপর। এই মুহূর্তে তাই দৃশ্যপটটি যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি শান্তির দিকে চলে যায়নি; আবার কূটনীতিও ব্যর্থ হয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক দাঁড়িয়ে আছে এমন এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে একদিকে সংঘাতের চাপ, অন্যদিকে সমঝোতার দরজা- দুটিই পাশাপাশি খোলা।

শীর্ষনিউজ