ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার, জ্বালানি স্থাপনা এবং সামরিক কমান্ড কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে তিন দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন। এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তাবগুলো বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে এর মধ্যেই পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার তথ্য সামনে এলো।
নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেসনাল নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো হামলা চালাবে না বলে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে দেশ দুটির মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করছি। যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো সময়েই আমরা ইরানের ওপর হামলা চালাব না।
প্রতিবেদন মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানের ওপর হামলা চালায়, তখন থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে; পাশাপাশি নভেম্বরের নির্বাচনে আইনসভায় নিজেদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রচেষ্টায় থাকা তার রিপাবলিকান সতীর্থদের ওপরও এটি বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি করেছে।
রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান– যাদের মধ্যে প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও রয়েছেন– ইরান পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নেয়া পদক্ষেপের সাথে একমত নন। এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে; আর ভোটাররা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে নির্বাচনের পর তেলের দাম কমবে বলে তিনি আশা করছেন; কিন্তু যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা তিনি তুলে ধরেননি।
শীর্ষনিউজ