Image description

২০২৬ সালের মারাকেশ এয়ার শোয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ইসরায়েলের আটটি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে তিন বড় প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই), এলবিট সিস্টেমস ও রাফায়েল। মরক্কো ও ইসরায়েলের মধ্যে দ্রুত জোরালো হতে থাকা সামরিক সহযোগিতাই এতে স্পষ্ট হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

রয়্যাল মরোক্কান এয়ার ফোর্সের (আরএমএএফ) সামরিক ঘাঁটিতে ৭ থেকে ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে ২৭টি দেশের প্রায় ২০০ প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। 

 

উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে ইতিমধ্যে অস্ত্র সরবরাহ করা ইসরায়েলি প্রদর্শকদের মধ্যে এলবিট সিস্টেমস তাদের সবচেয়ে উন্নত ও যুদ্ধে পরীক্ষিত কিছু ব্যবস্থা প্রদর্শন করছে। এর মধ্যে রয়েছে নজরদারি ও হামলা অভিযানে ব্যবহৃত দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম ড্রোন হারমিস ৯০০। আরও আছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম লয়টারিং মিউনিশন স্কাইস্ট্রাইকার এবং ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্দেশিত রকেট ছুড়তে সক্ষম রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থা পুলস।

 

প্রদর্শনীর উদ্বোধনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদেল লতিফ লৌদি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আমদানির মডেল থেকে জাতীয় সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা সার্বভৌমত্ব গড়ে তোলার দিকে যাওয়ার কথা বলেন। মরক্কোর প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি উন্নত করার বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর নজিরবিহীন উপস্থিতি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতারা এখন এই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পের কিছু অংশ উৎপাদন মরক্কোয় সরানো শুরু করেছে। ড্রোন নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ নিয়ে চুক্তিও হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির মাধ্যমে মরক্কো ও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বিনিময়ে ওয়াশিংটন পশ্চিম সাহারায় মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবি স্বীকার করে। ১৯৭০-এর দশক থেকে ভূখণ্ডটি মরক্কোর দখলে রয়েছে।

২০২৪ সালের মার্চে ফরাসি দৈনিক ল’উমানিতে প্রকাশিত অনুসন্ধানে বলা হয়, ইসরায়েলি অস্ত্র ব্যবহার করে পশ্চিম সাহারায় শিশুসহ কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে মরক্কো।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের পরই ইসরায়েল মরক্কোর অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। বাণিজ্য ও কূটনীতিতেও সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। গত মাসে মরক্কো ও ইসরায়েল ঘোষণা দেয়, তারা কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নীত করবে, যোগাযোগ দপ্তরগুলোকে দূতাবাসে রূপান্তর করবে এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেবে।

তবে ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে ওঠা এই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জনরোষ তৈরি হচ্ছে। মরক্কোর সমাজ নিয়মিত গণসমাবেশে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি ও স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা প্রকাশ করে।

গাজা যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকী এবং এয়ার শোর প্রথম দিন বুধবার রাবাতে পার্লামেন্টের বাইরে কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে গভীর হতে থাকা সম্পর্কের নিন্দা জানান। তারা ফিলিস্তিন ও প্রতিরোধ দীর্ঘজীবী হোক এবং ইসরায়েল ও জায়নবাদীরা নিপাত যাক স্লোগান দেন।