ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। এদিন বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতাকর্মীরা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে গেলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য আটক করা হয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে অনিয়মের প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলোর এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।
এসআইআরের বিরুদ্ধে এর আগে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট দিল্লিতে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে মিছিল করেছিলেন বিরোধীরা। এবার ২ অক্টোবর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়. মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে যান। বিপুলসংখ্যক মানুষ এসময় সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
পুলিশের একাধিক স্তরের ব্যারিকেডে একপর্যায়ে আটকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে ব্যারিকেডের ওপর উঠে বড় একটি জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে নাড়তে থাকেন রাহুল গান্ধী। এ সময় বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাঁর সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশের হাতে আটক হন কংগ্রেসের এই নেতা।
একই সঙ্গে তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকেও আটক করে পুলিশের বাসে তোলা হয়। পরে অবশ্য গান্ধী পরিবারের এই দুই ভাই-বোন বাসটি থেকে নেমে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে এগুতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা বারবার তাদের বাধা দেন।
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। তারা মঙ্গলবার ইন্ডিয়া জোটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ১০ অক্টোবর তাদের কর্মসূচিকে কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের কর্মসূচি হিসেবে না দেখে তরুণদের বৃহত্তর আন্দোলনের আহ্বান হিসেবে দেখা উচিত।
সর্বশেষ খবরে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে বাধার মুখে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় বেতার সম্প্রচার সংস্থা আকাশবাণীর প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে একটি গাছের নিচে অবস্থান নেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই এই দুই কংগ্রেস নেতা সেখানে বসে পড়েন। এ সময় আকাশবাণী কার্যালয়ের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।