Image description

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি আদালতে হিজাব পরা এক নারী বিচারককে দেখে এজলাস কক্ষেই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন এক আসামি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন আইনজীবীদের একাংশ। তবে অভিযুক্তের বিজেপিপন্থি আইনজীবী ক্ষমা চাইলেও দাবি করেছেন, অনেকেই নাকি সম্ভাষণের সময়ে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে থাকেন।


সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের চার নম্বর কক্ষে হিজাব পরা নারী বিচারকের সামনে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়ার এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নিন্দা জানিয়েছেন আইনজীবীদের একাংশ। আদালতকক্ষে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এজলাসে নাম ধরে অভিযুক্তদের উপস্থিতি নেয়ার সময় তাদের মধ্যে একজন ‘জয় শ্রীরাম’ বলে স্লোগান দেন।

বিচারকের পোশাক দেখে তিনি ওই মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতকক্ষেই বিতর্ক তৈরি হয়। পরে অভিযুক্তদের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা আদালতকক্ষেই ক্ষমা চান।

শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার ঘটনাটিকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এটা একেবারেই অনভিপ্রেত। আদালতকক্ষে এ সব কখনোই কাম্য নয়। আদালত চাইলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা হতে পারত। ’

অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায় বলেন, “আদালতকক্ষ ধর্ম-রাজনীতি বা অন্য সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিরপেক্ষ বিচারের জায়গা। সেখানে কোনোভাবেই কোনো ধর্মীয় অথবা রাজনৈতিক স্লোগান দেয়া বা মন্তব্য করা যায় না। এই ধরনের ঘটনা কখনোই নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ধরনের কার্যকলাপের তীব্র বিরোধিতা করি এবং নিন্দা জানাই। ”

এদিকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়ার ঘটনায় আদালতকক্ষের প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের আইনজীবী এবং পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য অলকেশ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “আদালতকক্ষে সর্বদাই নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলতে হয়। বিচারক কিংবা বিচারপ্রার্থী—কারও পরিধেয় বস্ত্র দেখে কখনও কোনো মন্তব্য করা যায় না। আদালত নিরপেক্ষ বিচারের জায়গা। যদি পোশাক দেখে এমন স্লোগান দেয়া হয়ে থাকে, তা হলে সেটা ভুল নয়, এটা অপরাধ। ”

অন্যদিকে, ঘটনাটিকে কাকতালীয় বলে মন্তব্য করে আদালতকক্ষেই ক্ষমা চেয়েছেন বিজেপিপন্থি আইনজীবী ত্রিদিব সাহা। তিনি দাবি করেছেন, “বহু মানুষ সম্ভাষণ জানানোর সময় জয় শ্রীরাম, রাধে রাধে বা এই ধরনের বাক্য ব্যবহার করে থাকেন। নাম ধরে ডাকার সময় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন না বুঝেই জয় শ্রীরাম বলে ফেলেছেন। যদিও ঘটনার জন্য তৎক্ষণাৎ আমি এবং আমরা ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। ’

তার দাবি, বিচারককে উদ্দেশ্য করে ওই স্লোগান দেয়া হয়নি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একটি মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে ২৪ জনতে তলব করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ত্রিদিব সাহাও ছিলেন। ২০১৮ সালে একটি ভিনধর্মী বিয়েকে কেন্দ্র করে ওই মামলার সূত্রপাত। সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

ওই মামলায় কয়েকজন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। পরে বাকি কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়। শুনানির জন্য বাকিদেরও আদালতে ডাকা হয়।

এ সময় আদালতের পক্ষ থেকে নাম ধরে উপস্থিতি নেয়ার সময় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন বিচারকের পোশাক দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন।

শীর্ষনিউজ