Image description

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদের সভাপতি সালাহ সারসুরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে বলে রায় দিয়েছেন এক অভিবাসন আদালতের বিচারক। ফিলিস্তিনে জন্ম নেওয়া সারসুর তিন দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন।

‘স্নায়ু যুদ্ধের’ সময়কার একটি আইনের আওতায় তাকে বহিষ্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন বিচারক জেমি সালিনার্দি। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলেছে, সারসুর জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি। তবে সারসুর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

রায়ের পর সারসুর বলেছেন, তিনি ‘অত্যন্ত হতাশ’। তবে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলা থেকে তিনি সরে যাবেন না। তার আইনজীবীরা বলেছেন, আইনি লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা যাবে না।

সারসুর আশঙ্কা করছেন, তাকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তার আইনজীবীরা বলেছেন, তাকে নির্যাতনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার আইনি সুযোগও তারা চাইবেন।

সারসুরকে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক সংস্থা (আইস) আটক করেছিল। ৮০ দিনের বেশি আটক থাকার পর জুনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তখন এক ফেডারেল বিচারক বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণে সারসুরকে প্রতিশোধমূলকভাবে আটক করা হয়ে থাকতে পারে।

এবারের মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার সারসুরের ইসরায়েলে কয়েক দশক আগের দণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখিয়েছে। সারসুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তার আইনজীবীদের দাবি, ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার কাছ থেকে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল।

তবে বিচারক সারসুরের গ্রিন কার্ডের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার সরকারি অভিযোগ নাকচ করেছেন। অর্থাৎ, বহিষ্কারের রায়ের ভিত্তি হয়েছে মূলত পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ।

সারসুরের সমর্থকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকি বলেছে, সারসুর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং মসজিদ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত।

ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনপন্থী কিছু কর্মকাণ্ডকে ইহুদিবিদ্বেষ ও চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন।

অধিকারকর্মীরা এর বিরোধিতা করে বলেছেন, ইসরায়েলি নীতি বা ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলা ইহুদিবিদ্বেষ বা চরমপন্থার সমর্থন নয়।

সারসুরের মামলায় এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে। তার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।