Image description

উত্তর ইরাকের বাশিকা-জিলকান সামরিক ঘাঁটি ধাপে ধাপে ইরাক সরকারের কাছে হস্তান্তরে রাজি হয়েছে তুরস্ক। স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারে একমত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উত্তর ইরাকের সিনজারে ইরাকি রাষ্ট্রের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে থাকা বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি বন্ধ করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
উত্তর ইরাকে তুর্কি সেনাবাহিনী। ফাইল ছবি / রয়টার্সইরাকের নিরাপত্তাব্যবস্থায় অগ্রগতি হলে তুরস্কের সেনারা একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও সময়সূচি অনুযায়ী বাশিকা-জিলকান ঘাঁটি ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে হস্তান্তর শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।

মসুলের উত্তর-পূর্বে বাশিকায় তুরস্ক ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। তখন ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইরত স্থানীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ঘাঁটিতে একসময় প্রায় ৬০০ তুর্কি সেনা মোতায়েন ছিল।

তবে তুরস্কের এই সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বাগদাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। ইরাক বলেছিল, তাদের অনুমতি ছাড়া তুর্কি সেনা মোতায়েন দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে আঙ্কারা বলেছে, ওই অঞ্চলে তুরস্কের নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

সিনজার অঞ্চলটিও দীর্ঘদিন ধরে তুরস্ক ও কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ইরাকি-তুর্কি সমঝোতায় সিনজারে ইরাকি সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বাশিকা ঘাঁটি হস্তান্তরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ইরাকের নারী কুর্দি যোদ্ধাদের একটি দল। ফাইল ছবি/ রয়টার্সনিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতেও একমত হয়েছে দুই দেশ। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, আগে সই হওয়া চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং যৌথ কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাশিকা ঘাঁটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে বাগদাদ ও আঙ্কারার দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ মেটানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তর ইরাকে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং তুরস্ক-ইরাকের বাণিজ্য ও যোগাযোগ সহযোগিতা বাড়ানোর পথও এতে তৈরি হতে পারে।

সূত্র : আলজাজিরা