Image description

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। গত জুন মাসে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম পরোক্ষ বৈঠক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার দিনই কাতারের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন। উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর বার্তা আদান-প্রদান করেছে। তিনি বলেন, আমরা এক ধাপ আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন করেছি, যা গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে বলে আমরা আশা করি।

 

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই জানান, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনমূলক পদক্ষেপ বন্ধের শর্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনও চুক্তি হবে যা তাদের পুনর্গঠিত হতে দেবে? নাকি আমি ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস করে দেব এবং তা দ্রুত করব? আমি কি তাদের জাহান্নামে পাঠিয়ে দেব?

 

তবে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই চুক্তি সম্ভব হবে। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিন ঘণ্টাব্যাপী অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। জবাবে ইরান আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে। বিশ্ব বাণিজ্যের ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি উভয় পক্ষ সাময়িক সংঘাত এবং বন্দর অবরোধ বজায় রাখলেও নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরান নীতি পরিবর্তনের কোনও আলামত দেয়নি।

সূত্র: বিবিসি