সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের চলমান সামরিক অভিযানে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দিতে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) সাইপ্রাসের একটি ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে বলে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
গতকাল ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, হুতিদের নতুন করে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বৃদ্ধির পর সৌদি আরবকে ‘অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা’ দেওয়া হবে। এই সহায়তার অংশ হিসেবে একটি আরএএফ ভয়েজেজ এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন করা হবে। বিমানটি সৌদি আরবের ‘প্রতিরক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে’ সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইম জানিয়েছে, এই সামরিক সহায়তা সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হতে পারে। ফলে লিমাসোলের কাছে অবস্থিত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত আক্রোতিরি বিমানঘাঁটি সম্ভাব্য ঘাঁটি হিসেবে সামনে এসেছে। তবে সাইপ্রাসের ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি। সাইপ্রাসের সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস মেইলের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সামরিক অভিযানের ‘অপারেশনাল বিস্তারিত’ বিষয়ে মন্তব্য করবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ার ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। লোহিতসাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৫ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। বাব আল-মান্দেব হয়ে জাহাজগুলো সাধারণত উত্তর দিকে সুয়েজ খাল পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরের দিকে যায়।
এদিকে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হয়েছে ড্রোন হামলা।
পাইপলাইনটির সর্বোচ্চ পরিবহন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল এবং এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব এড়িয়ে সৌদি তেল পরিবহন করা সম্ভব। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাজ্যেও। এর মধ্যে রয়েছে ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং ব্রিটিশ ব্যবসাগুলোর অতিরিক্ত ব্যয়।
লন্ডন হুতি আন্দোলনকে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘বিপজ্জনক হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার বলেছে, হুতিদের অগ্রগতি ঠেকানো যুক্তরাজ্যের জাতীয় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। সৌদি আরবকে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তার সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে আক্রোতিরির নাম সামনে আসায় সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি নিয়ে পুরনো বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এর আগে ২ মার্চ আক্রোতিরি ঘাঁটিতে একটি ইরান-নির্মিত ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেস ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে দেশটিতে থাকা ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘খোলামেলা ও স্পষ্ট’ আলোচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব সাইপ্রাসের জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ২ ইউরো এবং পেট্রোলের দাম প্রায় ১.৬৮ ইউরো পর্যন্ত উঠেছে।